আইনি জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে মুক্তির আলো দেখছে পরিচালক অরিন্দম শীলের নতুন ছবি ‘কর্পূর’ (Korpur)। তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ এবং মন্ত্রী ব্রাত্য বসু অভিনীত এই ছবিটির প্রদর্শনীতে বাধা চেয়ে দায়ের করা মামলা শুক্রবার খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। ফলে ভোটের আবহে ছবিটির মুক্তি নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তার অবসান ঘটল।
মামলার প্রেক্ষাপট ও আদালতের রায়: নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দোহাই দিয়ে ‘কর্পূর’ ছবির প্রদর্শনী বন্ধের আর্জি জানিয়েছিলেন গোপাল সামন্ত নামে এক ব্যক্তি। তাঁর দাবি ছিল, যেহেতু কুণাল ঘোষ এবং ব্রাত্য বসু এই নির্বাচনে প্রার্থী, তাই তাঁদের অভিনীত ছবি মুক্তি পেলে তা ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারে। তবে প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চ এদিন মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তোলে।
আদালত লক্ষ্য করে যে, আবেদনকারী গোপাল সামন্ত আদতে ছত্তিশগড়ের রায়পুরের বাসিন্দা। বালি খাদান সংক্রান্ত পুরনো একটি মামলার রায়কে হাতিয়ার করে আদালত জানায়, আবেদনকারী সংশ্লিষ্ট রাজ্যের বাসিন্দা না হলে এ ধরনের জনস্বার্থ মামলার কোনও আইনি ভিত্তি থাকে না। এই যুক্তিতেই মামলাটি খারিজ করে দেওয়া হয়।
কেন এই ছবি ঘিরে এত চর্চা? নয়ের দশকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সহকারী পরীক্ষা নিয়ামকের রহস্যজনক অন্তর্ধান নিয়ে সাহিত্যিক দীপান্বিতা রায়ের লেখা ‘অন্তর্ধানের নেপথ্যে’ অবলম্বনে তৈরি হয়েছে এই সিনেমা। ছবিতে কুণাল ঘোষ ছাড়াও অভিনয় করেছেন জাতীয় পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। কুণাল ঘোষের অভিনয় এবং ছবির বিতর্কিত বিষয়বস্তু ইতিমধ্যেই নেটপাড়ায় দারুণ আলোড়ন তৈরি করেছে।
কুণাল ঘোষের প্রতিক্রিয়া: আদালতের এই রায় আসার পর স্বস্তি প্রকাশ করেছে প্রযোজনা সংস্থা ও শিল্পী মহল। কুণাল ঘোষের মতে, শিল্প ও সংস্কৃতিকে রাজনীতির চশমা দিয়ে বিচার করে আটকে রাখার চেষ্টা সফল হয়নি।
নির্বাচনী উত্তাপের মাঝেই এবার প্রেক্ষাগৃহে ‘কর্পূর’-এর সুবাস ছড়িয়ে পড়তে আর কোনও বাধা রইল না। এখন দেখার, বড় পর্দায় এই ‘তদন্তমূলক কাহিনি’ দর্শকদের মনে কতটা জায়গা করে নিতে পারে।





