২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফা ভোটের প্রাক্কালে বড়সড় পদক্ষেপ কেন্দ্রীয় সংস্থার। শুক্রবার ভোর থেকে রাসবিহারীর তৃণমূল প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক দেবাশিস কুমারের বাড়িতে শুরু হয়েছে আয়কর হানা (IT Raid)। তবে তল্লাশি কেবল বিধায়কের বাসভবনেই সীমাবদ্ধ নেই; বেলা গড়াতেই আয়কর আধিকারিকদের একটি দল পৌঁছে গিয়েছে দেবাশিস কুমারের শাশুড়ির ফ্ল্যাটেও।
কাকভোরে অভিযান: শুক্রবার ভোর ৫টা নাগাদ মনোহরপুকুর রোডে দেবাশিস কুমারের বাড়িতে পৌঁছান আয়কর দপ্তরের আধিকারিকরা। তাঁদের সঙ্গে ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিশাল টিম। একই সময়ে হানা দেওয়া হয় তাঁর নির্বাচনী কার্যালয়েও। এরপর সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ ওই এলাকাতেই অবস্থিত একটি বহুতল ভবনের পঞ্চম তলে, যেখানে বিধায়কের শাশুড়ি একা থাকেন, সেখানেও তল্লাশি শুরু করে আধিকারিকরা। স্থানীয়দের কাছে ওই ফ্ল্যাটটি ‘দেবাদার ফ্ল্যাট’ নামেই পরিচিত।
কেন এই হানা? সূত্রের খবর, সম্প্রতি জমি সংক্রান্ত একটি অভিযোগ এবং আর্থিক লেনদেনের অসঙ্গতির জেরেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) ইতিপূর্বে এই বিষয়ে তাঁকে একাধিকবার তলব করেছিল। আয়কর দপ্তরের আধিকারিকদের দাবি, আয় ও ব্যয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য না থাকা এবং কিছু গোপন নথির সন্ধানেই এই তল্লাশি।
তৃণমূলের প্রতিবাদ: ভোটের মাত্র কয়েকদিন আগে এই তল্লাশিকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে দাবি করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দেবাশিস কুমারের বাড়ির সামনে জমায়েত করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন দলীয় কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, বিজেপি হার নিশ্চিত জেনে এখন কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে ব্যবহার করে নির্বাচনের ‘ব্লু-প্রিন্ট’ চুরির চেষ্টা করছে।
বর্তমান পরিস্থিতি: সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, দেবাশিস কুমারের বাড়ি, কার্যালয় এবং শাশুড়ির ফ্ল্যাটে এখনও তল্লাশি জারি রয়েছে। বাড়ির ভেতরে ঢোকা বা বাইরে বেরোনো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বেশ কিছু ডিজিটাল ডিভাইস ও নথিপত্র।
ভোটের মুখে দক্ষিণ কলকাতার এই হেভিওয়েট নেতার বাড়িতে আয়কর হানা যে বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ বাড়াল, তা নিশ্চিত।





