২০২৬ সালের বহুল চর্চিত ‘আসন পুনর্বিন্যাস’ বা ‘ডিলিমিটেশন বিল’ (Delimitation Bill 2026) নিয়ে উত্তপ্ত সংসদ ভবন। লোকসভায় এই বিলের তীব্র বিরোধিতা করে কেন্দ্রের মোদী সরকারকে কড়া ভাষায় বিঁধলেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর দাবি, এই বিলটি কেবল সাধারণ আসন পুনর্বিন্যাস নয়, বরং ভারতের গণতান্ত্রিক পরিকাঠামো এবং বিশেষত দক্ষিণ ও ছোট রাজ্যগুলোর অধিকার কেড়ে নেওয়ার এক সুপরিকল্পিত ছক।
রাহুল গান্ধীর প্রধান অভিযোগসমূহ: শুক্রবার লোকসভায় আলোচনার সময় রাহুল গান্ধী এই বিলটিকে “দেশবিরোধী কাজ” (Anti-national act) বলে অভিহিত করেন। তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয়গুলো ছিল:
মানচিত্র বদলের চেষ্টা: রাহুলের দাবি, বিজেপি সরকার জানে যে তারা রাজনৈতিকভাবে শক্তি হারাচ্ছে। তাই গায়ের জোরে দেশের নির্বাচনী মানচিত্র (Electoral Map) বদলে দিয়ে নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে চাইছে।
দক্ষিণ ভারতের ওপর আঘাত: রাহুল অভিযোগ করেন, যেসব রাজ্য (যেমন দক্ষিণ ভারত) জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে, এই বিলের ফলে লোকসভায় তাদের প্রতিনিধিত্ব কমে যাবে। তিনি সাফ বলেন, “আপনারা দক্ষিণ, উত্তর-পূর্ব এবং ছোট রাজ্যগুলোকে বলছেন যে বিজেপির ক্ষমতায় থাকার জন্য তোমাদের ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হবে।”
মহিলা সংরক্ষণের আড়াল: তাঁর অভিযোগ, সরকার মহিলা সংরক্ষণের নাম করে আসলে এই বিতর্কিত বিলটিকে পিছনের দরজা দিয়ে পাশ করাতে চাইছে। সরকার যদি আন্তরিক হতো, তবে ২০২৩ সালে পাশ হওয়া বিলটিই কেন কার্যকর করছে না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
জাদুকর কটাক্ষ: প্রধানমন্ত্রী মোদীকে লক্ষ্য করে তিনি ‘জাদুকর’ (Magician) তকমা দিয়ে বলেন, “জাদুকরের কারসাজি ধরা পড়ে গিয়েছে। নোটবন্দি বা বালাকোটের মতো এখানেও উনি ভেলকি দেখানোর চেষ্টা করছেন।”
বিলের মূল প্রস্তাব কী? ২০২৬ সালের এই নতুন বিল অনুযায়ী, লোকসভার আসন সংখ্যা বর্তমানের ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করার প্রস্তাব রয়েছে। বিরোধীদের আশঙ্কা, উত্তর ভারতের বড় রাজ্যগুলোতে (যেমন উত্তরপ্রদেশ ও বিহার) জনসংখ্যা বেশি হওয়ায় সেখানকার আসন সংখ্যা বহুগুণ বাড়বে, যার ফলে জাতীয় রাজনীতিতে দক্ষিণ ভারতের প্রভাব চূড়ান্তভাবে হ্রাস পাবে।
সরকার পক্ষের অবস্থান: পাল্টা জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরণ রিজিজু জানিয়েছেন, জনসংখ্যার ভারসাম্য বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ জরুরি। তাঁদের দাবি, কংগ্রেস ঐতিহাসিকভাবেই ওবিসি (OBC) বা জনজাতিদের অধিকার বিরোধী, তাই তারা এই সংস্কারের বিরোধিতা করছে।
আপাতত দিল্লির রাজনীতিতে এই বিলটি ‘গৃহযুদ্ধ’ সদৃশ পরিস্থিতি তৈরি করেছে। রাহুল গান্ধী চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন যে, বিরোধী জোট কোনোভাবেই এই বিল পাশ হতে দেবে না।





