“ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবে নিজেকে ঘোষণা করেছিলেন রাহুল!” বিস্ফোরক অভিযোগে কোণঠাসা কংগ্রেসের ‘সেনাপতি’

নির্বাচনের মরসুমের মাঝেই মেগা ধাক্কা খেলেন কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর বিরুদ্ধে ‘দ্বৈত নাগরিকত্ব’ (Dual Citizenship) রাখার অভিযোগে এফআইআর (FIR) দায়ের করার নির্দেশ দিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। রায়বরেলির কোতোয়ালি থানায় এই মামলা রুজু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ: লখনউ বেঞ্চের বিচারপতি সুভাষ বিদ্যার্থীর একক বেঞ্চ জানিয়েছে, রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রকৃতি অত্যন্ত গুরুতর। আদালত জানিয়েছে:

  • প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সপক্ষে তথ্য (Prima Facie Case) রয়েছে।

  • ‘অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট’, ‘পাসপোর্ট অ্যাক্ট’ এবং ‘ফরেনার্স অ্যাক্ট’-এর অধীনে তদন্ত প্রয়োজন।

  • উত্তরপ্রদেশ সরকার চাইলে রাজ্য পুলিশের পাশাপাশি সিবিআই (CBI)-কেও এই তদন্তে যুক্ত করতে পারে।

অভিযোগের মূলে ‘ব্যাকঅপস লিমিটেড’: কর্নাটকের বিজেপি কর্মী এস. ভিগনেশ শিশিরের দায়ের করা পিটিশন অনুযায়ী:

  • ২০০৩ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যের কোম্পানি ‘ব্যাকঅপস লিমিটেড’-এর নথিপত্রে রাহুল গান্ধী নিজেকে ‘ব্রিটিশ’ নাগরিক হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন।

  • ভারতীয় আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তির দ্বৈত নাগরিকত্ব রাখার অধিকার নেই। যদি এটি প্রমাণিত হয়, তবে রাহুল গান্ধীর সাংসদ পদ শুধু বাতিলই হবে না, তিনি নির্বাচনে লড়ার যোগ্যতাও হারাবেন।

রাজনৈতিক চাপানউতোর: হাইকোর্টের এই নির্দেশ আসতেই দেশজুড়ে রাজনৈতিক পারদ চড়ছে। বিজেপি নেতারা এই রায়কে ‘ঐতিহাসিক’ বলে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, “আইন সবার জন্য সমান, তিনি গান্ধী পরিবারের সদস্য হলেও রেহাই পাবেন না।”

অন্যদিকে, কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, রাহুল গান্ধী শুধুমাত্র ভারতেরই নাগরিক এবং নির্বাচনের ঠিক আগে পুরোনো ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে ফায়দা লুটতে চাইছে গেরুয়া শিবির।

নিজে যে আসন (রায়বরেলি) থেকে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন, সেই থানাতেই এবার রাহুলের বিরুদ্ধে এফআইআর হতে চলায় পরিস্থিতি যে আরও জটিল হতে যাচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য। সিবিআই তদন্ত শুরু হলে রাহুলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy