লোকসভা নির্বাচনের শেষ লগ্নে এসে এক নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি নিজের মেজাজ স্পষ্ট করে তিনি জানিয়ে দিলেন, রাজনীতির ময়দানে তিনি নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো ‘উদার’ নন। ৪ জুনের পর পরিস্থিতি যে বদলে যাবে এবং কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সেই ইঙ্গিতই দিয়ে রাখলেন ডায়মন্ড হারবারের বিদায়ী সাংসদ।
বিস্ফোরক অভিষেক: নির্বাচনী প্রচারের মঞ্চ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আজ সম্পূর্ণ ভিন্ন মেজাজে দেখা গেল। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত উদার মনের মানুষ। তিনি অনেক কিছু ক্ষমা করে দেন। কিন্তু আমি অতটা উদার নই। ৪ জুনের পর আমি বুঝিয়ে দেব।” তাঁর এই ‘বোঝানোর’ হুঁশিয়ারি আসলে কাদের প্রতি, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
নিশানায় কি বিরোধী নাকি দলের ‘বিপজ্জনক’ অংশ? রাজনৈতিক মহলের মতে, অভিষেকের এই তর্জন-গর্জনের নেপথ্যে দুটি সম্ভাবনা রয়েছে:
কেন্দ্রীয় এজেন্সি ও বিজেপি: যেভাবে ভোটের আগে তৃণমূলের একের পর এক নেতাকে কেন্দ্রীয় এজেন্সি দিয়ে ধরপাকড় করা হয়েছে, তার বদলা নেওয়ার প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত হতে পারে এটি।
ভিতরের শত্রু: দলের মধ্যে যারা থেকে অন্তর্ঘাত করছে বা দলের ক্ষতি করছে, ৪ জুনের পর তাদের বিরুদ্ধে কড়া শৃঙ্খলাভঙ্গের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে— এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।
তৃণমূলের অন্দরে শোরগোল: অভিষেকের এই মন্তব্যকে তাঁর ‘নিউ তৃণমূল’ বা নতুন প্রজন্মের রাজনীতির অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। যেখানে ক্ষমা নয়, বরং সরাসরি সংঘাতের পথে হেঁটে নিজের শক্তি জাহির করতে চান তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘অভিভাবক সুলভ’ ইমেজের বাইরে গিয়ে অভিষেক নিজের এক ‘কঠোর প্রশাসক’ ইমেজ তৈরি করতে চাইছেন বলেই মনে করা হচ্ছে।
এখন দেখার, ৪ জুনের ফল প্রকাশের পর অভিষেকের এই ‘হুঁশিয়ারি’ বাস্তবে কার ওপর আছড়ে পড়ে। বাংলা তথা ভারতের রাজনীতিতে কি বড় কোনো রদবদলের ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন তৃণমূলের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’?





