হার্ট অ্যাটাক বর্তমান সময়ে বিশ্বের অন্যতম প্রধান মারণব্যাধি। প্রচলিত ধারণা হলো, হার্ট অ্যাটাক মানেই কেবল বুকে তীব্র ব্যথা। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, নারী ও পুরুষের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণগুলো সম্পূর্ণ আলাদা হতে পারে। অনেক সময় সাধারণ গ্যাস্ট্রিক বা ক্লান্তির আড়ালে লুকিয়ে থাকে বড় বিপদের সংকেত। সময়মতো লক্ষণ চিনতে না পারার কারণে প্রতি বছর অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারান। জীবন বাঁচাতে হার্ট অ্যাটাকের এই ৮টি ভিন্ন ও গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ সম্পর্কে আপনার স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন।
পুরুষ ও নারীর মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের প্রধান লক্ষণসমূহ: * তীব্র বুকে ব্যথা (উভয় ক্ষেত্রে): এটি সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ। বুকের মাঝখানে প্রচণ্ড চাপ বা ভারি কিছু চেপে বসার মতো অনুভূতি হওয়া হার্ট অ্যাটাকের প্রাথমিক সংকেত।
নারীদের ক্ষেত্রে চোয়াল ও পিঠে ব্যথা: পুরুষদের সাধারণত বাম হাতে ব্যথা ছড়িয়ে পড়ে, কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে ব্যথা চোয়াল, ঘাড় বা পিঠের ওপরের অংশে হতে পারে।
অত্যধিক ক্লান্তি: কোনো কারণ ছাড়াই প্রচণ্ড ক্লান্তি বোধ করা নারীদের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের একটি বড় লক্ষণ। অনেক সময় কয়েকদিন আগে থেকেই এই ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে।
শ্বাসকষ্ট: কোনো পরিশ্রম ছাড়াই হাঁপিয়ে ওঠা বা দম নিতে কষ্ট হওয়া। এটি হৃদযন্ত্রের রক্ত সঞ্চালন কমে যাওয়ার অন্যতম লক্ষণ।
পেটে অস্বস্তি ও বমি ভাব: অনেক নারী হার্ট অ্যাটাকের ব্যথাকে সাধারণ অ্যাসিডিটি বা বদহজম ভেবে ভুল করেন। বমি বমি ভাব বা পেটে অসহ্য চাপ অনুভব করলে সতর্ক হওয়া জরুরি।
ঠাণ্ডা ঘাম ও মাথা ঘোরা: হঠাৎ শরীর ঠাণ্ডা হয়ে ঘামতে থাকা এবং সেই সাথে মাথা ঝিমঝিম করা হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ হতে পারে।
হাতের অসাড়তা: বাম হাত বা কাঁধ থেকে ব্যথা হাতের আঙুল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়া পুরুষদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়।
অনিদ্রা ও উদ্বেগ: কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ অত্যন্ত দুশ্চিন্তা হওয়া বা রাতে ঘুম না আসা হৃদরোগের পূর্বলক্ষণ হতে পারে।
হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধের সবচেয়ে বড় উপায় হলো দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া। উপরের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন, সঠিক সময়ে সচেতনতাই পারে একটি মূল্যবান প্রাণ রক্ষা করতে।





