বাতের ব্যথা বা আর্থ্রাইটিস বর্তমানে একটি অত্যন্ত সাধারণ কিন্তু যন্ত্রণাদায়ক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সমস্যা প্রকট হলেও, বর্তমান জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসের কারণে অল্প বয়সীরাও এই রোগের শিকার হচ্ছেন। চিকিৎসকদের মতে, ওষুধের পাশাপাশি সঠিক খাদ্যাভ্যাস বাতের ব্যথা নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অন্যদিকে, কিছু বিশেষ খাবার অজান্তেই শরীরে প্রদাহ (Inflammation) বাড়িয়ে দেয়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
চিনির আধিক্য ও মিষ্টি পানীয়:
অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার এবং কোল্ড ড্রিঙ্কস বা প্যাকেজড জুস বাতের ব্যথার প্রধান শত্রু। চিনি শরীরে সাইটোকাইন নামক এক ধরনের প্রোটিন নিঃসরণ করে যা প্রদাহ বাড়ায়। নিয়মিত সোডা পান করলে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
অতিরিক্ত লবণ ও প্রসেসড ফুড:
লবণ বা সোডিয়াম শরীরে জল ধরে রাখতে সাহায্য করে, যা গাঁটের ফোলাভাব এবং অস্বস্তি বাড়িয়ে দেয়। চিপস, ফ্রোজেন ফুড এবং টিনজাত খাবারে প্রচুর পরিমাণে প্রিজারভেটিভ ও লবণ থাকে, যা বাতের রোগীদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক।
লাল মাংস (Red Meat):
খাসি বা গরুর মাংসে উচ্চমাত্রায় স্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং পিউরিন থাকে। পিউরিন শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা জয়েন্টে জমা হয়ে তীব্র ব্যথার সৃষ্টি করে। এর বদলে সামুদ্রিক মাছ বা মুরগির মাংস পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে।
রিফাইনড কার্বোহাইড্রেট:
ময়দা, সাদা চাল বা পাস্তার মতো রিফাইনড কার্বোহাইড্রেট রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। এটি শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বৃদ্ধি করে বাতের যন্ত্রণাকে আরও উসকে দেয়।
সুস্থ থাকতে আজই আপনার খাদ্যতালিকায় পরিবর্তন আনুন। প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি, ফল এবং ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার অন্তর্ভুক্ত করুন।





