যখন গোটা বিশ্বের চোখ মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালীতে আমেরিকা-ইরান সংঘাতের দিকে, ঠিক তখনই দক্ষিণ চিন সাগরে নিঃশব্দে নিজেদের দাপট বাড়িয়ে চলেছে চিন। স্ট্র্যাটেজিক বুদ্ধিতে এক কদম এগিয়ে স্কারবোরো শোলের (Scarborough Shoal) চারপাশ কার্যত সিল করে দিয়েছে লাল ফৌজ। উপগ্রহ চিত্রে ধরা পড়েছে চিনের তৈরি এক বিশাল ‘ভাসমান বাধা’, যা ঘিরে নতুন করে ঘনিয়ে উঠছে যুদ্ধের মেঘ।
কেন স্কারবোরো শোল নিয়ে এত লড়াই? দেখতে ছোট হলেও এই এলাকাটি অত্যন্ত কৌশলগত এবং মৎস্যসম্পদে সমৃদ্ধ। এটি ফিলিপিন্সের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের (EEZ) মধ্যে পড়লেও চিন দাবি করে পুরো এলাকাটিই তাদের। ফিলিপিনো মৎস্যজীবীদের রুটি-রুজি এই এলাকার ওপর নির্ভরশীল হলেও চিনের দাদাগিরিতে তাঁরা এখন ঘরছাড়া।
সমুদ্রে চিনের ‘লোহার দেওয়াল’: সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট ছবি ও রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, চিন এই এলাকায় যা করছে তা এককথায় নজিরবিহীন:
৩৫০ মিটারের বাধা: স্কারবোরো শোলের প্রবেশপথে প্রায় ৩৫০ মিটার দীর্ঘ একটি শক্তিশালী ভাসমান দেওয়াল বা বাধা তৈরি করেছে চিন।
সামুদ্রিক মিলিশিয়া: মাছ ধরার নৌকার আড়ালে চিন সেখানে বিপুল পরিমাণ ‘সামুদ্রিক মিলিশিয়া’ ও উপকূলরক্ষী জাহাজ মোতায়েন করেছে।
সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ: ফিলিপিন্সের কোনো জাহাজ বা নৌকা যাতে এই প্রবাল প্রাচীরের ভেতরে ঢুকতে না পারে, তার জন্য ২৪ ঘণ্টা পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মুখোমুখি আমেরিকা ও চিন: ফিলিপিন্সও এবার দমে যেতে নারাজ। চিনের এই পদক্ষেপের পাল্টায় তারা নিজেদের নৌবাহিনী ও উপকূলরক্ষী জাহাজ পাঠিয়ে দিয়েছে। ম্যানিলার পাশে দাঁড়িয়েছে ওয়াশিংটন। হোয়াইট হাউসের স্পষ্ট বার্তা, ফিলিপিন্সের ওপর সরাসরি কোনো হামলা হলে আমেরিকা চুপ করে বসে থাকবে না। ফলে দক্ষিণ চিন সাগরে এখন আমেরিকা ও চিন— দুই মহাশক্তিধর দেশের রণতরী একে অপরের চোখের সামনে।
[Image: Satellite view showing Chinese ships and floating barriers at Scarborough Shoal]
বিশ্লেষকদের মত: ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, চিন অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে হরমুজ সংকটের সময়টিকে বেছে নিয়েছে। যখন আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে ব্যস্ত, তখনই চিন দক্ষিণ চিন সাগরে নিজেদের অবস্থান স্থায়ী করতে চাইছে। এই ‘ছায়াযুদ্ধ’ যদি সরাসরি সংঘাতে রূপ নেয়, তবে তা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্ফুলিঙ্গ হতে পারে।





