ভারতীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। বৃহস্পতিবার লোকসভায় প্রতীক্ষিত ‘মহিলা সংরক্ষণ বিল’ পেশ করল নরেন্দ্র মোদী সরকার। বিল পেশের ঠিক আগেই সমাজমাধ্যমে (X) দেশবাসীকে বিশেষ বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী। এই পদক্ষেপকে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়ে নারীদের প্রতি বিশেষ সম্মান জ্ঞাপন করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর বার্তা: এক্স হ্যান্ডলে (সাবেক টুইটার) প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, “আজ থেকে শুরু হওয়া সংসদের বিশেষ অধিবেশনে আমাদের দেশ নারী ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ করতে চলেছে। আমাদের মা-বোনেদের প্রতি শ্রদ্ধা মানেই দেশের প্রতি শ্রদ্ধা—এই ভাবনাকে পাথেয় করেই আমরা অত্যন্ত দৃঢ় ভাবে এই পথে এগিয়ে চলেছি।” তিনি আরও যোগ করেন, ভারতের নারীরা যেন তাঁদের উজ্জ্বল কিরণ দিয়ে বিশ্বকে আলোকিত করেন।
সংসদে ‘ট্রিপল’ বিলের ধামাকা: মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করতে এই বিশেষ অধিবেশনে মোট তিনটি বিল এনেছে সরকার: ১. সংবিধানের ১৩১-তম সংশোধনী বিল। ২. আসন পুনর্বিন্যাস (Delimitation) বিল। ৩. কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিল।
বিরোধীদের কড়া অবস্থান ও শর্ত: বিলটি পেশ হওয়ার আগেই বুধবার রাতে মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনে বৈঠকে বসেছিল ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের নেতৃত্ব। মহিলা সংরক্ষণে নীতিগত সমর্থন থাকলেও কেন্দ্রের ‘ডিলিমিটেশন’ কৌশলের তীব্র বিরোধিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।
বিরোধীদের দাবি: ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে বর্তমান ৫৪৩টি আসনেই ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ চালু করা হোক।
বিরোধিতার কারণ: সরকার যদি সংরক্ষণের অজুহাতে লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করতে চায়, তবে সংসদীয় কক্ষেই কড়া প্রতিরোধের মুখে পড়তে হবে মোদী সরকারকে।
কেন এই সংঘাত? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৯ সালের আগে মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করা এবং একই সঙ্গে আসন পুনর্বিন্যাস করা নিয়ে কেন্দ্র ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে লড়াই এখন তুঙ্গে। বিরোধীরা মনে করছেন, ডিলিমিটেশনের মাধ্যমে কেন্দ্র আসলে নির্দিষ্ট কিছু রাজ্যের ক্ষমতা বাড়িয়ে দিতে চাইছে।





