সংসদের বিশেষ অধিবেশনে আজ এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে চলেছে দেশ। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া তিন দিনের এই বিশেষ অধিবেশনে মোদি সরকার আনতে চলেছে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনয়ম’ বা মহিলা সংরক্ষণ সংশোধনী বিল। এই পদক্ষেপকে দেশের জন্য ‘ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্পষ্ট জানিয়েছেন, “আমাদের মা-বোনেদের প্রতি শ্রদ্ধার অর্থ আমাদের দেশের প্রতি শ্রদ্ধা।” প্রশাসনিক স্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ আরও শক্তিশালী করাই এই বিলের মূল লক্ষ্য।
কেন্দ্রীয় সরকারের এই প্রস্তাবে লুকিয়ে আছে এক বিরাট রদবদল। প্রস্তাব অনুযায়ী, লোকসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত হতে পারে। এর ফলে বর্তমান ৫৪৩টি আসনের মধ্যে প্রায় ১৮১টি আসন মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট হবে। তবে সবচেয়ে বড় চমক রয়েছে আসন পুনর্বিন্যাস বিলে। সেনসাস বা জনগণনা ছাড়াই লোকসভার মোট আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই ৮৫০টি আসনের মধ্যে ৮১৫টি রাজ্যগুলির জন্য এবং ৩৫টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির জন্য বরাদ্দ করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিলটি পাশ হলে পশ্চিমবঙ্গেও লোকসভা আসনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
তবে এই রাজকীয় প্রস্তাব ঘিরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিরোধীরা একজোট হয়ে এই পদক্ষেপকে ২০২৯ সালের নির্বাচন জয়ের ‘চক্রান্ত’ বলে কটাক্ষ করেছে। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে দলের অন্তত ২০ জন সাংসদ অধিবেশনে উপস্থিত থেকে এই আসন পুনর্বিন্যাস বিলের তীব্র বিরোধিতা করবেন বলে জানা গেছে। বিরোধীদের দাবি, জনগণনা ছাড়া এই পুনর্বিন্যাস অসাংবিধানিক।
অধিবেশনের প্রথম দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে কেন্দ্র। সংসদ ভবনের ভিজিটরস গ্যালারি আজ পূর্ণ থাকবে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মহিলাদের উপস্থিতিতে। ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত নারীরা আজ সংসদীয় কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করবেন। একদিকে মোদি সরকারের ‘নারী শক্তি’র জয়গান, অন্যদিকে বিরোধীদের তীব্র প্রতিরোধ—সব মিলিয়ে আগামী তিন দিন সংসদের অন্দরে উত্তাপ যে তুঙ্গে থাকবে, তা বলাই বাহুল্য।





