মহারাষ্ট্রের অমরাবতী জেলার পারাতওয়াড়া এখন এক আতঙ্কের নাম। যা শুরু হয়েছিল সাধারণ একটি ‘ভাইরাল ক্লিপ’ দিয়ে, তদন্তের গভীরে যেতেই তা এখন মহীরুহের আকার ধারণ করেছে। উদ্ধার হয়েছে ১৮০ জন তরুণীর অন্তত ৩৫০টি আপত্তিকর ও গোপন ভিডিও। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি কেবল কোনো একক ব্যক্তির লালসা নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে সুসংগঠিত কোনো অপরাধী চক্র।
তদন্তে বড় সাফল্য: গ্রেফতার আরও এক পান্ডা
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তদন্তে পুলিশ দ্বিতীয় সাফল্য পেয়েছে। মূল অভিযুক্ত আয়ান আহমেদের পর এবার ধরা পড়েছে উজের খান ইকবাল। অভিযোগ, আয়ানের মোবাইল থেকে ভিডিওগুলো ডাউনলোড করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিচ্ছিল এই উজের। তাকে জেরা করে পুলিশ নিচের তথ্যগুলো উদ্ধারের চেষ্টা করছে:
ভিডিওগুলো আসলে কোথায় এবং কীভাবে শ্যুট করা হয়েছিল?
এই নোংরা ভিডিওর গ্রাহক কারা ছিল?
ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মাধ্যমে আরও বড় কোনো কারবার চলত কি না?
পুরানো ডেটা উদ্ধারের চেষ্টা: সাইবার সেলের চ্যালেঞ্জ
প্রধান অভিযুক্ত আয়ান আহমেদ বর্তমানে ২১শে এপ্রিল পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে। তার মোবাইল থেকে বিপুল পরিমাণ আপত্তিকর ভিডিও বাজেয়াপ্ত করা হলেও দেখা গেছে, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ডিলিট বা মুছে ফেলা হয়েছে। পুলিশের বিশেষ সাইবার টিম এখন সেই তথ্যগুলো পুনরুদ্ধারের (Data Recovery) চেষ্টা করছে। মনে করা হচ্ছে, মুছে ফেলা তথ্যের মধ্যেই লুকিয়ে আছে এই কেলেঙ্কারির আসল হোতারা।
রাজনৈতিক চাপানউতোর ও নিরাপত্তার কড়াকড়ি
ঘটনাটি নিয়ে পারাতওয়াড়া এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশ কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে। বিরোধী দলগুলি এই ঘটনায় বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT গঠনের দাবি তুলেছে। অন্যদিকে, অভিযুক্তদের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগসাজশের অভিযোগ ওঠায় শাসকদলও পাল্টা সাফাই দিচ্ছে। স্থানীয় নেতারা জানিয়েছেন, ভুক্তভোগীরা যাতে ভয় না পান, তার জন্য নারী পুলিশ নিয়োগ করা হয়েছে এবং ‘জিরো এফআইআর’ (Zero FIR) করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
জনসাধারণের প্রতি পুলিশের কড়া বার্তা
পুলিশ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে:
এই ঘটনার কোনো ভিডিও বা ছবি শেয়ার করা দণ্ডনীয় অপরাধ।
ভুক্তভোগীদের পরিচয় গোপন রাখা হচ্ছে, তাই কোনোভাবেই যেন গুজব ছড়ানো না হয়।
ভিডিও ছড়ালে বা ব্যক্তিগত পরিসরে শেয়ার করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হবে।
পারাতওয়াড়া থানার পুলিশ কর্মকর্তারা ভুক্তভোগীদের আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, তাঁদের পরিচয় গোপন রেখেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন দেখার, ডিলিট করা ডেটা থেকে এই যৌন কেলেঙ্কারির আর কী কী ভয়ংকর দিক সামনে আসে।





