বকেয়া ডিএ দিতে কেন এত দেরি? সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের ‘সময় ভিক্ষা’র শুনানি বুধবার

রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) নিয়ে জট কি অবশেষে কাটতে চলেছে? বুধবার, ১৫ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টে উঠতে চলেছে এই বহুচর্চিত মামলা। বিচারপতি সঞ্জয় করোল ও বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের বেঞ্চে দুপুর নাগাদ এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা। ডিএ মেটানোর সময়সীমা বাড়ানোর জন্য রাজ্য সরকার যে আবেদন জানিয়েছিল, কাল তার ওপর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত জানাবে আদালত।

কেন পিছিয়ে যাচ্ছে ডিএ প্রদান?

গত ফেব্রুয়ারি মাসে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে, পুরনো বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ এবং বাকি ৭৫ শতাংশের প্রথম কিস্তি ৩১ মার্চের মধ্যে মিটিয়ে দিতে হবে। কিন্তু রাজ্য সরকার সেই নির্দেশ পালন না করে উল্টে সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন জানায়। রাজ্যের দাবি:

  • বকেয়া ডিএ-র পরিমাণ কয়েক হাজার কোটি টাকা, যা মেটানোর মতো আর্থিক সংস্থান আপাতত নেই।

  • কেন্দ্রের থেকে ঋণের অনুমোদন মেলেনি।

  • সামনেই বিধানসভা নির্বাচন, যার জন্য বিশাল অঙ্কের খরচ বরাদ্দ করতে হচ্ছে।

  • ২০১৬-র আগের কর্মীদের নথি এবং সার্ভিস বুক এখনও পুরোপুরি ডিজিটালাইজড হয়নি।

রাজ্যের আবেদন বনাম কর্মীদের হতাশা

নবান্ন আদালতকে জানিয়েছে, এই সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ডিএ মেটাতে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় প্রয়োজন। তবে সরকারি কর্মীদের আইনজীবী ফিরদৌস শামিম পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন যে, রাজ্য সরকার ইচ্ছে করেই টালবাহানা করছে। তাঁর মতে, রাজ্য সদিচ্ছা দেখালে আদালতের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যেই ২৫ শতাংশ বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া সম্ভব ছিল।

১০ বছরের দীর্ঘ লড়াই

ট্রাইব্যুনাল থেকে কলকাতা হাইকোর্ট হয়ে সুপ্রিম কোর্ট— গত ১০ বছর ধরে নিজেদের হকের লড়াই লড়ছেন রাজ্য সরকারি কর্মীরা। প্রতিটি আইনি লড়াইয়ে কর্মীরা জয় পেলেও বকেয়া টাকা হাতে না আসায় বাড়ছে হতাশা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy