ভোটের মুখে আই-প্যাক ঘিরে শোরগোল! প্রতীক জৈনের পরিবারকে ইডির নোটিশ, দিল্লিতে বাড়ছে তৎপরতা

নির্বাচন যত এগোচ্ছে, রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাক (I-PAC)-এর ওপর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি-র চাপ ততই বাড়ছে। সোমবার রাতে সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিনেশ চাণ্ডেলকে গ্রেফতার করার পর এবার সংস্থার অন্য অধিকর্তা প্রতীক জৈনের পরিবারকেও জালে আনতে চাইছে ইডি। মঙ্গলবার দিল্লির সদর দফতরে তলব করা হয়েছে প্রতীক জৈনের স্ত্রী বারবি জৈন এবং তাঁর ভাই পুলকিত জৈনকে।

কেন এই জরুরি তলব?

ইডির অভিযোগ, কয়লা পাচার মামলার বিপুল পরিমাণ ‘হাওয়ালা’র টাকা এই সংস্থার মাধ্যমে হাতবদল হয়েছে। পুলকিত জৈন নিজেও আই-প্যাকের অন্যতম ডিরেক্টর। তদন্তকারীদের অনুমান, এই আর্থিক লেনদেনের গভীরে যাওয়ার জন্য প্রতীকের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করা অত্যন্ত জরুরি।

আইনি লড়াই ও দিল্লির তৎপরতা

উল্লেখ্য, এর আগে প্রতীক জৈন এবং ঋষি রাজকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠানো হলে তাঁরা বাংলা এবং তামিলনাড়ুর নির্বাচনের কাজে ব্যস্ত থাকার কারণ দেখিয়ে সময় চেয়েছিলেন। এই নিয়ে তাঁরা দিল্লি হাইকোর্টেরও দ্বারস্থ হন। কিন্তু সেই আইনি লড়াই চলার মাঝেই প্রতীকের স্ত্রী ও ভাইকে তলব করে ইডি এক প্রকার স্পষ্ট করে দিল যে, তাঁরা এই তদন্তে কোনও ঢিলেমি দিতে রাজি নয়।

এক নজরে ঘটনাক্রম:

  • ৮ জানুয়ারি: কলকাতায় আই-প্যাক অফিস এবং প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির ম্যারাথন তল্লাশি।

  • ২ এপ্রিল: বিনেশ চাণ্ডেলের দিল্লি ও বেঙ্গালুরুর ডেরায় অভিযান।

  • ১৩ এপ্রিল (সোমবার): কয়লা পাচার মামলায় আই-প্যাকের ডিরেক্টর বিনেশ চাণ্ডেল গ্রেফতার।

  • ১৪ এপ্রিল (মঙ্গলবার): প্রতীকের স্ত্রী বারবি এবং ভাই পুলকিতকে দিল্লির সদর দফতরে তলব।

তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া ও রাজনৈতিক তরজা

আই-প্যাক কর্তার গ্রেফতারির ঘটনায় ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ডেরেক ও’ব্রায়েন একে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে অভিহিত করে বিনেশের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছেন। অন্যদিকে, বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, আইন আইনের পথেই চলছে এবং দুর্নীতির টাকা কোথায় কোথায় গিয়েছে তা খুঁজে বের করাই ইডির কাজ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy