আধুনিক জীবনযাত্রায় স্ট্রেস আর স্ক্রিন টাইমের চক্করে আমরা ঘুমের সঙ্গে আপস করি। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম অপরিহার্য। ঘুমের অভাব কীভাবে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ায়, দেখে নিন তার কারণগুলো:
১. হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বহুগুণ বৃদ্ধি
দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের রক্তচাপ বাড়তে থাকে। ঘুমের সময় আমাদের হৃদপিণ্ড এবং রক্তনালী বিশ্রাম পায়। কিন্তু ঘুম না হলে ‘স্ট্রেস হরমোন’ নিঃসরণ বেড়ে যায়, যা হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
২. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস হওয়া
ঘুমের সময় আমাদের শরীর ‘সাইটোকাইনস’ নামক এক ধরণের প্রোটিন তৈরি করে যা সংক্রমণ ও প্রদাহের বিরুদ্ধে লড়ে। আপনি যখন কম ঘুমান, তখন শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে সাধারণ সর্দি-কাশি থেকে শুরু করে ক্যানসারের মতো মারণ রোগের বিরুদ্ধে শরীর লড়াই করার ক্ষমতা হারায়।
৩. মেটাবলিক সিনড্রোম ও ডায়াবেটিস
ঘুমের অভাব সরাসরি ইনসুলিন হরমোনের ওপর প্রভাব ফেলে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা রাতে ৫ ঘণ্টার কম ঘুমান, তাদের টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি। আর ডায়াবেটিস শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল করে মৃত্যুর পথ প্রশস্ত করে।
৪. মানসিক অবসাদ ও আত্মহত্যার প্রবণতা
মস্তিষ্কের বিষাক্ত পদার্থ বা ‘টক্সিন’ পরিষ্কার হয় গভীর ঘুমের সময়। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা লোপ পায়, মেজাজ খিটখিটে হয় এবং মানুষ গভীর অবসাদে ডুবে যায়। পরিসংখ্যান বলছে, ইনসোমনিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা অনেক বেশি থাকে।
৫. মাইক্রো-স্লিপ ও দুর্ঘটনা
রাস্তায় গাড়ি চালানো বা কলকারখানায় কাজ করার সময় চোখের পলকে কয়েক সেকেন্ডের অনিচ্ছাকৃত ঘুম বা ‘মাইক্রো-স্লিপ’ প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ।
এডিটরের বিশেষ টিপস: রাতে ভালো ঘুমের জন্য যা করবেন
ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল বা ল্যাপটপ দূরে রাখুন।
প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করুন।
বিকেলের পর চা বা কফি এড়িয়ে চলুন।
ঘর অন্ধকার ও ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করুন।
মনে রাখবেন: আজকের রাতের এক ঘণ্টা বাড়তি কাজ হয়তো আপনার জীবনের বহু বছর কমিয়ে দিচ্ছে। তাই সুস্থ থাকতে ঘুমকে অগ্রাধিকার দিন।





