আপনি কি ভাবছেন বাংলায় ভোট ২৩শে এপ্রিল? তবে শুনুন, বঙ্গে ভোটগ্রহণ কিন্তু ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে! নির্বাচন কমিশনের নজিরবিহীন তৎপরতায় ভোটকর্মীরা এখন ভোটারদের বাড়ির দরজায়। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া পাহারায় ব্যালট বক্স নিয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরছে কমিশনের বিশেষ টিম। মূলত ৮৫ ঊর্ধ্ব প্রবীণ এবং বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্যই এই অভিনব ‘হোম ভোটিং’ ব্যবস্থার সূচনা হয়েছে।
পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ার চিত্র: জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, পুরুলিয়ার ৯টি বিধানসভা এলাকায় মোট ৫৫৮৮ জন ভোটার বাড়িতে বসে ভোট দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন। যার মধ্যে ৪০১৯ জনই সিনিয়র সিটিজেন। সোমবার থেকেই পুরুলিয়ায় এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পিছিয়ে নেই বাঁকুড়াও। সেখানে প্রায় ১২ হাজার ভোটার এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সাথে নিয়ে ভোটকর্মীরা ভোটারের ডাইনিং রুমে বা বারান্দায় গিয়ে পৌঁছে দিচ্ছেন বুথ।
নিজেদের বাড়িতেই তৈরি হচ্ছে ‘ভোট কম্পার্টমেন্ট’: বাড়িতে ভোট হলেও গোপনীয়তা বা নিরপেক্ষতায় বিন্দুমাত্র আপস করছে না কমিশন। ভোটদানের সময় ভোটারের বাড়িতেই তৈরি করা হচ্ছে অস্থায়ী ‘ভোট কম্পার্টমেন্ট’। সেখানেই পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নিচ্ছেন ভোটাররা। পুরো প্রক্রিয়াটি ভিডিওগ্রাফি এবং কঠোর নজরদারির মধ্যে সম্পন্ন হচ্ছে।
কেন এই আগাম ভোট? নির্বাচন কমিশন আগেই জানিয়েছিল, বৃদ্ধ ও শারিরীকভাবে অক্ষম ভোটাররা যাতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে কষ্ট না পান, তার জন্য বাড়ি গিয়ে ভোট নেওয়া হবে। নির্দিষ্ট ফর্মে আবেদনের ভিত্তিতেই এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
এক নজরে নির্ঘণ্ট: যদিও রাজ্যে মূল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে দুই দফায়— ২৩শে এপ্রিল এবং ২৯শে এপ্রিল। ফলপ্রকাশ হবে আগামী ৪ঠা মে। কিন্তু প্রবীণদের সম্মান জানাতে এবং ভোটদানের হার বাড়াতে এই ‘হোম ভোটিং’ এখন টলিউড থেকে গ্রামবাংলা— সর্বত্রই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।





