বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট বাজতেই রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে রাজনৈতিক ময়দান। প্রথম দফার ভোট শুরুর মাত্র দশ দিন আগে কয়লা পাচার মামলার তদন্তে চাঞ্চল্যকর মোড় নিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। বেআইনি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে আইপ্যাকের (I-PAC) ডিরেক্টর তথা সহ-প্রতিষ্ঠাতা ভিনেশ চান্ডেলকে। ভোটের মুখে এই হাই-প্রোফাইল গ্রেফতারি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
এদিকে, এবারের নির্বাচনে এক অদ্ভুত সমাপতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এতদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করতেন, ২৯৪টি আসনেই তিনি আসল প্রার্থী। এবার বিজেপির প্রচারেও শোনা যাচ্ছে একই সুর। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও নিজেকে সমস্ত আসনের মুখ হিসেবে তুলে ধরছেন। কার্যত ‘মোদি বনাম মমতা’র এই ব্যক্তিগত লড়াইয়ে সরগরম বঙ্গ রাজনীতি।
ভোটের লড়াইয়ে তুরুপের তাস এখন মহিলাদের মন জয়। তৃণমূলের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এ মহিলারা পাচ্ছেন ১৫০০ টাকা। পাল্টা চালে বিজেপি তাদের ‘সংকল্প পত্রে’ ক্ষমতায় এলে মাসে ৩০০০ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই টাকার অঙ্ক নিয়েই এখন চায়ের দোকানে বিতর্কের তুফান।
অন্যদিকে, বাকযুদ্ধেও কেউ কাউকে জমি ছাড়তে নারাজ। বীরভূমের সভা থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তৃণমূলের ‘সিন্ডিকেট রাজ’ খতম করার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “বিজেপি ক্ষমতায় এলে সিন্ডিকেটবাজদের উল্টো ঝুলিয়ে সোজা করা হবে।” পাল্টা সুর চড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, বিজেপি নেতারাই তোলাবাজিতে লিপ্ত। সব মিলিয়ে, ভোটের মুখে ইডি-র সক্রিয়তা আর নেতা-নেত্রীদের কড়া হুঁশিয়ারিতে তপ্ত বাংলা।





