ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া ৩৪ লক্ষ মানুষের জন্য সোমবারের সুপ্রিম শুনানি কার্যত দুঃসংবাদ বয়ে আনল। এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় যাঁরা ‘ডিলিটেড’ বা বাদ পড়েছেন, তাঁরা এই ভোটে অন্তর্বর্তীকালীন ভোটাধিকার পাবেন না— সাফ জানিয়ে দিল প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ। এমনকি যাঁরা ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন, তাঁদের জন্যও কোনো বিশেষ ছাড় মিলল না।
শীর্ষ আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ: প্রধান বিচারপতির মন্তব্য, “ভোটার তালিকায় নাম থাকা শুধু সাংবিধানিক নয়, একটি আবেগগত অধিকারও বটে। কিন্তু নির্বাচনের উত্তেজনা ও ধুলোর মধ্যে আমরা অন্ধ হয়ে যেতে পারি না।” ট্রাইব্যুনালগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করলে বিচার প্রক্রিয়ায় ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, এই যুক্তিতেই দ্রুত কোনো নির্দেশে নারাজ আদালত। বিচারপতি বাগচি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “যদি দিনে ১০০০ নথি পর্যালোচনা করা হয় এবং নির্ভুলতার হার ৭০ শতাংশ হয়, তবে ভুলের অবকাশ থেকেই যায়।”
পশ্চিমবঙ্গের জন্য আলাদা নিয়ম? এদিনের শুনানিতে আদালত পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর প্রক্রিয়ায় পদ্ধতিগত অসামঞ্জস্যের দিকে ইঙ্গিত করেছে। বিশেষ করে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ (Logical Discrepancy) নামক একটি ক্যাটাগরি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, যা বিহার বা অন্য রাজ্যের ক্ষেত্রে ছিল না। ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সদস্যদের কেন নতুন করে নথি জমা দিতে হবে, তা নিয়ে কমিশনের থেকে লিখিত বক্তব্য তলব করেছে আদালত।
কমিশনের অসহযোগিতার অভিযোগ: আবেদনকারীদের পক্ষের আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে, ট্রাইব্যুনালে নথি পেশ করার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন কোনো সহযোগিতা করছে না। অন্যদিকে কমিশন জানিয়েছে, গত ৯ এপ্রিলই ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ বা চূড়ান্ত করা হয়েছে। পরবর্তী শুনানি ২৩ এপ্রিল, অর্থাৎ রাজ্যের প্রথম দফার ভোটের দিন হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। ফলে এই নির্বাচনে বাদ পড়া লক্ষ লক্ষ মানুষের ভোট দেওয়া এখন প্রায় অসম্ভব বললেই চলে।





