মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানোর লক্ষ্যে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আয়োজিত আমেরিকা ও ইরানের হাই-ভোল্টেজ বৈঠক শেষ পর্যন্ত কোনও সমাধান ছাড়াই শেষ হল। টানা ২১ ঘণ্টা ধরে চলা রুদ্ধদ্বার বৈঠকেও দুই দেশ কোনও সাধারণ ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি। উল্টো আলোচনার টেবিল থেকে বেরিয়ে তেহরানের প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেছেন যে, আমেরিকা অত্যন্ত ‘অন্যায্য ও অযৌক্তিক’ দাবি করছে, যা মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, যুদ্ধবিরতি এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু মূল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে আমেরিকার পক্ষ থেকে চাপানো বেশ কিছু কঠোর শর্ত। ইরানের দাবি, ওয়াশিংটন এমন কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করতে চাইছে যা তাদের সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণ্ণ করে। অন্যদিকে, আমেরিকার প্রতিনিধিদের দাবি ছিল, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে ইরানকে তাদের প্রক্সি বাহিনীগুলোর মদত বন্ধ করতে হবে।
এই ম্যারাথন বৈঠক ব্যর্থ হওয়ায় আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। যেখানে আশা করা হয়েছিল ইসলামাবাদের এই আলোচনা সংঘাতের অবসান ঘটাবে, সেখানে দুই দেশের অনড় অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলল। এই আলোচনার পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে বা আদৌ নতুন করে কোনও বৈঠক হবে কি না, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা বজায় রয়েছে। বর্তমান উত্তপ্ত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই ব্যর্থতা বিশ্ব শান্তির পথে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।





