আধুনিক জীবনযাত্রা এবং অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে ‘ইউরিক অ্যাসিড’ (Uric Acid) এখন একটি পরিচিত নাম। রক্তে এর মাত্রা বেড়ে গেলে তা হাড়ের জয়েন্টে স্ফটিক বা ক্রিস্টাল আকারে জমা হতে থাকে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করালে এটি কেবল হাড়ের ক্ষতিই করে না, বরং কিডনি স্টোনের মতো মারাত্মক সমস্যাও তৈরি করতে পারে।
আপনার শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বিপদসীমা ছাড়িয়েছে কি না, তা বুঝবেন যে লক্ষণগুলো দেখে:
১. জয়েন্টে তীব্র ব্যথা ও লালচে ভাব
ইউরিক অ্যাসিড বাড়ার প্রধান লক্ষণ হলো হাড়ের সংযোগস্থলে বা জয়েন্টে ব্যথা। বিশেষ করে পায়ের বুড়ো আঙুল, গোড়ালি, হাঁটু বা কবজিতে হঠাৎ তীব্র ব্যথা শুরু হয়। আক্রান্ত স্থানটি অনেক সময় ফুলে যায় এবং লালচে হয়ে গরম অনুভূত হয়।
২. সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর জড়তা
সকালে ঘুম থেকে উঠে পা মেঝেতে ফেলতে গেলেই যদি তীব্র যন্ত্রণা হয় বা হাড়ের জয়েন্টগুলো শক্ত (Stiffness) হয়ে থাকে, তবে এটি উচ্চ ইউরিক অ্যাসিডের লক্ষণ হতে পারে। কিছুক্ষণ হাঁটাচলার পর এই ব্যথা কিছুটা কমলেও বিশ্রাম নিলে আবার ফিরে আসে।
৩. পিঠের নিচে বা কোমরে ব্যথা
ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা খুব বেশি বেড়ে গেলে তা কিডনিতে পাথর তৈরি করতে পারে। এর ফলে পিঠের নিচের দিকে বা কোমরের দুই পাশে অসহ্য যন্ত্রণা হতে পারে। অনেক সময় এই ব্যথা তলপেট পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।
৪. প্রস্রাবের সমস্যা ও জ্বালাপোড়া
রক্তে ইউরিক অ্যাসিড বেশি থাকলে প্রস্রাবের রঙ পরিবর্তন হতে পারে বা প্রস্রাব করার সময় জ্বালাপোড়া ভাব হতে পারে। এছাড়া বারবার প্রস্রাবের বেগ পাওয়াও এর একটি অন্যতম উপসর্গ।
৫. ত্বকের নিচে পিণ্ড বা দানা (Tophus)
সমস্যাটি দীর্ঘমেয়াদী হলে হাড়ের জয়েন্টের চারপাশে ছোট ছোট শক্ত পিণ্ড বা দানার মতো গুটি দেখা দিতে পারে। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘টোফি’ বলা হয়। এটি দেখা দেওয়া মানে শরীর চরম সতর্কবার্তা দিচ্ছে।
দ্রুত প্রতিকারের উপায় কী?
প্রচুর জল পান করুন: জল শরীর থেকে অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড বের করে দিতে সাহায্য করে।
পিউরিন সমৃদ্ধ খাবার বর্জন: রেড মিট (খাসি/গরু), সামুদ্রিক মাছ, পালং শাক এবং মসুর ডাল সাময়িকভাবে এড়িয়ে চলুন।
লেবুর জল: ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ খাবার বা পাতিলেবুর রস ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে বেশ কার্যকরী।
ওজন নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত ওজন ইউরিক অ্যাসিড বাড়ার অন্যতম কারণ, তাই নিয়মিত শরীরচর্চা করুন।





