ডায়াবেটিস ধরা পড়লেই রসালো ফল খাওয়ার ওপর নেমে আসে কঠোর বিধিনিষেধ। আম, লিচু বা আঙুর দেখে জিভে জল এলেও রক্তে শর্করার ভয়ে দূরে থাকতে হয়। কিন্তু পুষ্টিবিদরা বলছেন, এমন একটি সস্তা ও সহজলভ্য ফল আছে যা কেবল নিরাপদই নয়, বরং ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য মহৌষধ। আর সেই ফলটি হলো আমাদের অতি পরিচিত পেয়ারা।
কেন ডায়াবেটিস রোগীদের প্রতিদিন পেয়ারা খাওয়া উচিত? এর পেছনে রয়েছে কিছু চমকপ্রদ বৈজ্ঞানিক কারণ:
১. লো গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (Low GI)
পেয়ারা হলো ‘লো গ্লাইসেমিক ইনডেক্স’ যুক্ত ফল। এর মানে হলো, পেয়ারা খাওয়ার পর রক্তে শর্করার মাত্রা হুট করে বেড়ে যায় না। এটি খুব ধীরে ধীরে শরীরে শোষিত হয়, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
২. ফাইবার বা আঁশের খনি
পেয়ারাতে প্রচুর পরিমাণে ডায়েটারি ফাইবার থাকে। এই ফাইবার খাবার হজম করার প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়, ফলে রক্তে চিনি মেশার গতি কমে যায়। এছাড়া ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করে শরীরকে ঝরঝরে রাখে।
৩. ভিটামিন-সি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
কমলার চেয়েও প্রায় চার গুণ বেশি ভিটামিন-সি থাকে পেয়ারাতে। ডায়াবেটিস রোগীদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক সময় কমে যায়। পেয়ারা নিয়মিত খেলে সংক্রমণের ঝুঁকি কমে এবং শরীর ভেতর থেকে শক্তিশালী হয়।
৪. ওজন নিয়ন্ত্রণ ও কম ক্যালরি
অতিরিক্ত ওজন ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। পেয়ারাতে ক্যালরি খুব কম কিন্তু পেট ভরিয়ে রাখার ক্ষমতা বেশি। তাই বিকেলের নাস্তায় ভাজাপোড়া না খেয়ে একটি পেয়ারা খাওয়া ওজন কমানোর সেরা উপায়।
৫. পেয়ারা পাতার জাদুকরী চা
শুধু ফল নয়, পেয়ারা পাতাও ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী। গবেষণায় দেখা গেছে, পেয়ারা পাতা ফুটিয়ে সেই জল বা চা পান করলে খাওয়ার পর রক্তে শর্করার বৃদ্ধি রোধ করা সম্ভব।
কীভাবে খাবেন? (বিশেষ সতর্কতা)
খোসা ছাড়াবেন না: পেয়ারার খোসাতেও প্রচুর পুষ্টি থাকে, তাই ভালো করে ধুয়ে খোসাসহ চিবিয়ে খান।
লবণ বা মশলা এড়িয়ে চলুন: রাস্তার ধারের মতো বিট লবণ বা অতিরিক্ত মশলা দিয়ে পেয়ারা না খাওয়াই ভালো, এতে সোডিয়ামের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।
পরিমিতিবোধ: দিনে একটি মাঝারি সাইজের পেয়ারা আপনার জন্য যথেষ্ট।





