বাতিলের খাতায় ‘গুম প্রতিরোধ’ ও ‘গণভোট’! সংসদের প্রথম দিনেই কেন মুখ থুবড়ে পড়ল ২০টি গুরুত্বপূর্ণ আইন?

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা গুরুত্বপূর্ণ সব অধ্যাদেশের ভাগ্য নির্ধারণে বড় পদক্ষেপ নিল নবগঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ। গত দেড় বছরে জারি হওয়া ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ২০টি অধ্যাদেশ বর্তমানে বাতিলের মুখে বা কার্যকারিতা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে গুম প্রতিরোধ, গণভোট এবং বিচারক নিয়োগের মতো স্পর্শকাতর আইনগুলো নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

কেন কার্যকারিতা হারাচ্ছে এই অধ্যাদেশগুলো? সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, কোনো অধ্যাদেশ জারি হওয়ার পর সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে (এক্ষেত্রে ১০ই এপ্রিল) তা বিল আকারে পাশ করতে হয়। অন্যথায় সেটির আর কোনো আইনি ভিত্তি থাকে না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের বিশেষ কমিটি ২০টি অধ্যাদেশ এখনই পাশ না করার বা বাতিলের সুপারিশ করেছে।

বাতিলের তালিকায় থাকা ৪টি প্রধান অধ্যাদেশ: সরকার যে চারটি অধ্যাদেশ সরাসরি বাতিলের সুপারিশ করেছে, তার মধ্যে অন্যতম:

  • সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ: বিচারক বাছাইয়ে ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল’ গঠনের বিধান বাতিল হচ্ছে।

  • সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়: বিচার বিভাগের পৃথক সচিবালয় ও আর্থিক স্বাধীনতার জন্য জারি করা অধ্যাদেশটি রহিত করার পথে সরকার।

  • সংসদ সচিবালয়: স্পিকারের অবর্তমানে দায়িত্ব পালনের বিশেষ বিধানও বাতিল করা হচ্ছে।

কার্যকারিতা হারাচ্ছে আরও ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ আইন: সংসদে বিল আকারে না আসায় যে ১৬টি আইন মুখ থুবড়ে পড়ছে, তার মধ্যে রয়েছে সাধারণ মানুষের জীবন ও অধিকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক বিষয়:

  • গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার: গুমকে ‘চলমান অপরাধ’ হিসেবে গণ্য করে সর্বোচ্চ শাস্তির যে বিধান আনা হয়েছিল, তা আপাতত থমকে যাচ্ছে।

  • গণভোট অধ্যাদেশ: সংবিধান সংস্কারের জন্য গণভোটের যে বিধান প্রবর্তন করা হয়েছিল, তাও কার্যকারিতা হারাচ্ছে।

  • দুদক ও মানবাধিকার: দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মানবাধিকার কমিশনের পুনর্গঠন সংক্রান্ত সংশোধনীগুলোও ঝুলে গেল।

  • অন্যান্য: এছাড়াও মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা এবং তথ্য অধিকার সংক্রান্ত বেশ কিছু সংশোধনী এখনই আইনে পরিণত হচ্ছে না।

রাজনৈতিক বিতর্ক ও কমিটি গঠন: গুরুত্বপূর্ণ এই আইনগুলো পাশ না করা বা রহিত করা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে ও আইনগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনার জন্য বিএনপি নেতা জয়নুল আবেদীনকে প্রধান করে সংসদে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অধ্যাদেশগুলো বাতিল হলে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া অনেক সংস্কার উদ্যোগ আইনগত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। এখন দেখার বিষয়, ১০ই এপ্রিলের চূড়ান্ত সময়সীমার আগে সরকার এই বিষয়ে নতুন কোনো পদক্ষেপ নেয় কি না।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy