উত্তরবঙ্গের চা-বলয় থেকেই কি রাজ্যে পরিবর্তনের ঢেউ আছড়ে পড়বে? বুধবার আলিপুরদুয়ারের সোনাপুরের মেগা জনসভা থেকে সেই লক্ষ্যেই সুর চড়ালেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। নিয়োগ দুর্নীতি থেকে চা-বাগানের বেহাল দশা— একাধিক ইস্যুতে তৃণমূল সরকারকে তুলোধোনা করে তাঁর হুঙ্কার, “আগামী ৪ মে ফলপ্রকাশের দিন পশ্চিমবঙ্গে ভাগোয়া (গেরুয়া) হোলি খেলবে জনতা।”
চা-শ্রমিকদের জন্য ‘অসম মডেল’: বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ডুয়ার্সে দাঁড়িয়ে নীতিন নবীন এদিন চা-শ্রমিকদের মন জয়ের চেষ্টা করেন। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের আমলে চা-বাগানের অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে অসমে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সরকারের আদলে চা-বাগানের পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি বৃদ্ধির বড় প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
নিয়োগ দুর্নীতি ও এসআইআর (SIR) ইস্যুতে আক্রমণ: রাজ্যের চাকরিপ্রার্থীদের দুর্দশার কথা মনে করিয়ে দিয়ে নীতিন আশ্বাস দেন, বিজেপি সরকার গড়লে দুর্নীতিগ্রস্তরা কড়া শাস্তি পাবে এবং নিয়োগ হবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ। পাশাপাশি, অনুপ্রবেশকারী ইস্যু ও এসআইআর (SIR) নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে তিনি বলেন, “অনুপ্রবেশকারীদের নাম কাটা যাওয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লি ছুটছেন, কিন্তু রাজ্যের মা-বোনেদের ওপর অত্যাচারে তিনি নীরব।”
বিকাশ বনাম জঙ্গলরাজ: বিজেপি সভাপতি কেন্দ্রের বন্দে ভারত এবং অমৃত ভারত প্রকল্পের উদাহরণ টেনে দাবি করেন, বিজেপি মানেই উন্নয়ন। বিহারের উদাহরণ টেনে বাংলায় তথাকথিত ‘জঙ্গলরাজ’ অবসানের ডাক দিয়ে তিনি দাবি করেন, মানুষ এবার দুই দফাতেই দু’হাত উজাড় করে বিজেপিকে ভোট দিয়ে এই সরকারকে বিদায় জানাবে।
ভোটের ময়দানে উত্তরবঙ্গ: প্রথম দফার ভোটে উত্তরবঙ্গই এখন বিজেপির পাখির চোখ। ডুয়ার্স ও চা-বাগানের ভোটব্যাংক ধরে রেখে দক্ষিণবঙ্গেও পরিবর্তনের বার্তা পৌঁছে দিতে চান নীতিন নবীন। আগামী ৪ মে-র ফলাফলই বলে দেবে নীতিনের এই ‘গেরুয়া হোলি’র স্বপ্ন কতটা সফল হবে।





