২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার ঠিক আগেই বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, ইভিএম (EVM) নয়, আসল কারচুপি বা ‘ভোটচুরি’ চলছে ভোটার তালিকায়। সোমবার রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দপ্তরে গিয়ে একপ্রকার নজিরবিহীন আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি। অভিষেকের দাবি, “আসল ম্যাচটা ওরা এখন বাংলায় খেলছে ভোটার তালিকা নিয়ে। ইভিএম-এ নয়, জালিয়াতি হচ্ছে অ্যালগরিদমে।”
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল অভিযোগ ‘ফর্ম ৬’ (নতুন ভোটার হওয়ার ফর্ম) নিয়ে। তাঁর দাবি, সোমবার মাত্র ৬-৭ ঘণ্টার মধ্যে সিইও দপ্তরে প্রায় ৩০ হাজার ফর্ম ৬ জমা পড়েছে, যা নিয়মবিরুদ্ধ। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি ৫০টির বেশি ফর্ম জমা দিতে পারেন না। কিন্তু অভিষেকের অভিযোগ, উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের বাসিন্দাদের বাংলার ভোটার তালিকায় ঢোকাতে বস্তাভর্তি ফর্ম জমা দিচ্ছে বিজেপি। একটি ভিডিও টুইট করে তিনি দেখিয়েছেন, কীভাবে সিইও দপ্তরের দ্বিতীয় তলায় বক্স ভর্তি ফর্ম রাখা রয়েছে। এই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ জনসমক্ষে আনার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
তৃণমূল নেতার দাবি, স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR)-এর নামে বাংলার জনবিন্যাস বা ডেমোগ্রাফি বদলে দেওয়ার চেষ্টা করছে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারাতে না পেরে এখন দিল্লি থেকে ভোটার তালিকায় কারচুপি করা হচ্ছে। মহারাষ্ট্র বা দিল্লিতে যে কায়দায় ভোট চুরি হয়েছে, বাংলায় তা হতে দেব না।” পাল্টা বিজেপিও কমিশনে গিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ভোট ‘হাইজ্যাক’ করার অভিযোগ তুলেছে। ১ এপ্রিল থেকে প্রচার তুঙ্গে ওঠার আগেই ভোটার তালিকা ঘিরে এই চাপানউতোর বাংলার রাজনীতিকে এক নতুন সংঘাতের দিকে ঠেলে দিল।