রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদ থেকে পদত্যাগ করলেন অধ্যাপক সোনালি চক্রবর্তী বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার বিকেলে আচার্য তথা রাজ্যপাল আরএন রবির কাছে তিনি নিজের ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী সোনালি চক্রবর্তী বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আচমকা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত শিক্ষামহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।
কে এই সোনালি চক্রবর্তী বন্দ্যোপাধ্যায়? দীর্ঘদিন ধরেই তিনি রাজ্যের শিক্ষা প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত। গত বছরের ১ অগস্ট থেকে তিনি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন। এর আগে তিনি দীর্ঘ সময় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া, রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ডের চেয়ারপার্সন হিসেবেও তাঁর কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
বিতর্ক ও আইনি লড়াই: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে থাকাকালীন তাঁর নিয়োগ ও পুনর্বহাল নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়েছিল। রাজ্য সরকার ও তৎকালীন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের সঙ্গে সংঘাতের আবহে তাঁর নিয়োগের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছিল সেই মামলা। শেষ পর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ বহাল রেখে শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিয়েছিল, উপাচার্য পুনর্নিয়োগের এক্তিয়ার রাজ্য সরকারের নেই। সেই আইনি জটিলতা কাটিয়ে পরবর্তী সময়ে আচার্য সিভি আনন্দ বোসের আমলে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে তিনি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিযুক্ত হন।
কেন এই ইস্তফা? রাজ্যে সরকার বদলের পর হঠাৎ তাঁর এই পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক ও শিক্ষামহলে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। তবে পদত্যাগের কারণ হিসেবে তিনি ব্যক্তিগত কোনো সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করেছেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সোনালি চক্রবর্তী বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
শিক্ষামহলের একাংশের মতে, রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে গত কয়েক বছর ধরে যেভাবে উপাচার্য নিয়োগ ও সংঘাতের আবহে একাধিক ঘটনা ঘটেছে, এটি সেই ধারাবাহিকতারই একটি নতুন অংশ। এখন দেখার, তাঁর ইস্তফাপত্র গ্রহণ করার পর রাজ্যপাল পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে রবীন্দ্রভারতীর দায়িত্ব কার হাতে তুলে দেন।





