পয়লা এপ্রিল থেকেই খেলা শুরু! মমতার গদি নাড়াতে ওয়েইসির হাত ধরছেন বিদ্রোহী হুমায়ুন?

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই বাংলার রাজনীতিতে সবথেকে বড় বিস্ফোরণটি ঘটালেন তৃণমূলত্যাগী দাপুটে নেতা হুমায়ুন কবীর। নিজের নতুন দল ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’র ক্ষমতা জাহির করতে এবার হায়দরাবাদের মিম (AIMIM) প্রধান আসাউদ্দিন ওয়েইসির সঙ্গে হাত মেলাতে চলেছেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, মুর্শিদাবাদসহ গোটা রাজ্যের মুসলিম ভোটব্যাঙ্কে তৃণমূলের একাধিপত্য ভাঙতেই এই ‘বিরাট’ পদক্ষেপ। বুধবার দলীয় ইস্তাহার প্রকাশের আগে হুমায়ুন সাফ জানিয়ে দিলেন, ১ এপ্রিল থেকেই তিনি কোমর বেঁধে ভোটপ্রচারে নামছেন।

তৃণমূলের সবথেকে জনপ্রিয় প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ নিয়েও বড়সড় চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন হুমায়ুন। তিনি ঘোষণা করেছেন, তাঁর দল ক্ষমতায় এলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের অনুদান বাড়িয়ে মাসে ৩,৫০০ টাকা করা হবে। মূলত গ্রামবাংলার মহিলা ভোট নিজেদের দিকে টানতেই এই মেগা প্রতিশ্রুতি বলে মনে করা হচ্ছে। হুমায়ুনের এই ঘোষণায় স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তিতে শাসক শিবির। তৃণমূলের অন্দরে দীর্ঘকাল থাকা এই নেতা যেভাবে ঘাসফুল শিবিরের ভোট অঙ্ক বিগড়ে দেওয়ার ছক কষছেন, তাতে চিন্তার ভাঁজ আলিপুরদুয়ার থেকে কাকদ্বীপ পর্যন্ত।

মুর্শিদাবাদের এই দাপুটে নেতার দাবি, সংখ্যালঘু সমাজকে কেবল ‘ভোটব্যাঙ্ক’ হিসেবে ব্যবহার করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। এবার সেই হিসেব চুকিয়ে দেওয়ার সময় এসেছে। ওয়েইসির মিম-এর সঙ্গে জোট হলে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের অন্তত ৫০-৬০টি আসনে তৃণমূলের জয় পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। ১ এপ্রিল থেকে হুমায়ুন কবীরের এই হাই-ভোল্টেজ প্রচার কি সত্যিই বাংলার মসনদের সমীকরণ বদলে দেবে? না কি শেষ পর্যন্ত মমতার ম্যাজিকেই ধামাচাপা পড়বে এই বিদ্রোহ? নজর থাকবে সেদিকেই।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy