ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই রাজ্য প্রশাসনে যেন বদলির সুনামি শুরু হয়েছে। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব থেকে শুরু করে ডিজি—বদলির তালিকা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। এবার সরাসরি আঘাত এল রাজ্য পুলিশের মধ্যস্তরে। বুধবার রাজ্যের ৫টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রেঞ্জের ডিআইজি (DIG)-কে একযোগে সরিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন।
নতুন দায়িত্বে কারা? কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ১৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার) সকাল ১১টার মধ্যে এই ৫ অফিসারকে নতুন দায়িত্ব বুঝে নিয়ে রিপোর্ট পাঠাতে হবে। দেখে নিন তালিকায় কারা রয়েছেন:
-
রাইগঞ্জ রেঞ্জ: রাঠৌর অমিতকুমার ভারত
-
মুর্শিদাবাদ রেঞ্জ: অজিত সিং যাদব
-
বর্ধমান রেঞ্জ: শ্রীহরি পাণ্ডে
-
প্রেসিডেন্সি রেঞ্জ: কঙ্কর প্রসাদ বারুই
-
জলপাইগুড়ি রেঞ্জ: অঞ্জলি সিং
এছাড়াও কলকাতার ডিসি সেন্ট্রালকেও সরিয়ে দিয়েছে কমিশন। গত চার দিনে যেভাবে পর পর ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ চালানো হচ্ছে প্রশাসনিক স্তরে, তা সাম্প্রতিক নির্বাচনে বেনজির বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
১৫ থেকে ১৮: টানা ৪ দিন রদবদলের খতিয়ান
-
১৫ মার্চ: মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিব বদল।
-
১৬ মার্চ: রাজ্য পুলিশের ডিজি, কলকাতার সিপি, এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) এবং ডিজি (কারা) বদল।
-
১৭ মার্চ: উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের এডিজি, ৪ জন পুলিশ কমিশনার এবং ১২ জন এসপি বদল।
-
১৮ মার্চ: ৫টি রেঞ্জের ডিআইজি বদল।
রাজ্য বনাম কমিশন: সংঘাত তুঙ্গে এই লাগাতার রদবদল নিয়ে চরম ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যেই তিনি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখে জানিয়েছেন, রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা না করে এভাবে একপাক্ষিক বদলি ‘যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোর পরিপন্থী’। মঙ্গলবার কালীঘাট থেকেও তিনি তোপ দেগে বলেন, “বিজেপি জিততে পারবে না জেনেই ভয় পেয়ে এসব করছে।”
বিজেপির পাল্টা যুক্তি পাল্টা জবাবে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “ভয়মুক্ত ও রক্তপাতহীন নির্বাচন করানো কমিশনের দায়িত্ব। কমিশন নিজের কাজ করছে, এর সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগ নেই।”
৪৭৮ জন পর্যবেক্ষকের কড়া নজরদারিতে বাংলার নির্বাচন এবার কোন পথে এগোয়, সেটাই এখন দেখার। প্রশাসনের এই আমূল পরিবর্তন ভোটের ময়দানে শান্তি ফেরাতে পারে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে সাধারণ মানুষ।