গণতন্ত্রের উৎসবে এবার সামনের সারিতে মহিলারা। ২০২৬-এর নির্বাচনে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মহেশতলা বিধানসভা কেন্দ্রে এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। লক্ষ্য— ২৯৭টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে প্রায় ২০০টি বুথই সম্পূর্ণভাবে মহিলা কর্মীদের দিয়ে পরিচালনা করা।
মহেশতলায় কেন এই বিশেষ উদ্যোগ? প্রশাসন সূত্রে খবর, গোটা জেলার মধ্যে মহেশতলাতেই সবচেয়ে বেশি মহিলা পরিচালিত বুথ (All-Women Polled Booth) তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর আগেও এই কেন্দ্রটি নজির গড়েছিল। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও ২৯২টি বুথের মধ্যে ৯০টি বুথ সামলেছিলেন মহিলারা, যা ছিল জেলায় সর্বাধিক। সেই সফল অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করেই এবার লক্ষ্যমাত্রা দ্বিগুণ করা হয়েছে।
প্রস্তুতি ও চ্যালেঞ্জ: ইতোমধ্যেই প্রথম দফার কাজ শুরু করে দিয়েছে প্রশাসন।
-
চিহ্নিতকরণ: প্রাথমিকভাবে ১০০টি বুথ চূড়ান্ত করা হয়েছে, যেখানে প্রিজাইডিং অফিসার থেকে শুরু করে পুলিশকর্মী— সকলেই হবেন মহিলা।
-
পরিকাঠামোগত বাধা: বাকি ১০০টি বুথ চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে কিছুটা সতর্ক প্রশাসন। কারণ, সব বুথে মহিলাদের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম পরিকাঠামো বা শৌচাগারের সুব্যবস্থা নেই। উপযুক্ত পরিবেশ না থাকলে সেখানে মহিলা কর্মীদের পাঠানো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করছেন আধিকারিকরা।
কেন এই পদক্ষেপ? নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় লিঙ্গ বৈষম্য দূর করা এবং মহিলাদের কর্মক্ষমতার ওপর আস্থা জ্ঞাপন করা। সংশ্লিষ্ট এক আধিকারিক জানান, “আমরা প্রতিটি কেন্দ্র খতিয়ে দেখছি। যেখানেই মহিলাদের উপযোগী পরিকাঠামো পাওয়া যাবে, সেখানেই তাঁদের দায়িত্ব দেওয়া হবে। লক্ষ্য একটাই— নির্বিঘ্ন এবং শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ।”
মহেশতলার এই ‘নারী শক্তি’র মডেল যদি সফল হয়, তবে তা আগামী দিনে রাজ্যের অন্যান্য কেন্দ্রের জন্যও পথপ্রদর্শক হয়ে উঠবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।