ঘড়ির কাঁটা মেনে রাত ১০টায় শুয়েছেন, উঠেছেন ভোর ৬টায়। হিসাব মতো আদর্শ ৮ ঘণ্টা ঘুম সম্পূর্ণ। তবুও সকালে বিছানা ছাড়ার সময় শরীর যেন বইতে পারছেন না! মন ভারি, হাত-পায়ে ক্লান্তি আর সারাদিন একটা ধীর ভাব। অনেকেই একে ঋতু পরিবর্তন বা সাধারণ অলসতা মনে করেন, কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন—সমস্যাটি আপনার শোবার ঘরের বাইরে, অর্থাৎ আপনার শরীরের ভেতরের কোনও বড় গোলযোগের সংকেত হতে পারে।
কেন পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও আপনার ক্লান্তি কাটছে না? জেনে নিন বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন:
১. থাইরয়েডের কারসাজি: আপনার ঘাড়ের কাছে থাকা প্রজাপতি আকৃতির থাইরয়েড গ্রন্থিটি শরীরের ‘পাওয়ার হাউস’ নিয়ন্ত্রণ করে। যদি এটি পর্যাপ্ত হরমোন তৈরি না করে (হাইপোথাইরয়েডিজম), তবে বিপাক হার কমে যায়। ফলে শরীর পর্যাপ্ত বিশ্রাম পেলেও নিজেকে রিচার্জ করতে পারে না।
২. ভিটামিন ও আয়রনের ঘাটতি: শরীরে খাদ্য থেকে শক্তি তৈরির জন্য ভিটামিন বি১২, ডি এবং আয়রন অপরিহার্য। এর মধ্যে যে কোনও একটির অভাব হলে টিস্যুতে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায়। ফলে পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও আপনি দুর্বলতা বোধ করেন।
৩. স্লিপ অ্যাপনিয়া (নিভৃত শত্রু): অনেকেই ঘুমের মধ্যে অজান্তেই কয়েক সেকেন্ডের জন্য শ্বাস নিতে বাধা পান, যাকে স্লিপ অ্যাপনিয়া বলা হয়। এর ফলে মস্তিষ্ক গভীর ঘুমে পৌঁছাতে পারে না। আপনি ভাবছেন আপনি ঘুমিয়েছেন, কিন্তু আপনার শরীর আসলে রাতভর লড়েছে অক্সিজেনের জন্য!
৪. মনের ক্লান্তি ও স্ট্রেস: মানসিক চাপ বা উদ্বেগ থাকলে শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। এতে শরীর শারীরিকভাবে স্থির থাকলেও মন সজাগ থাকে। ফলে ঘুম হয় অত্যন্ত হালকা এবং খণ্ডিত, যা সকালে আপনাকে পরিশ্রান্ত করে তোলে।
৫. রক্তে শর্করার ভারসাম্যহীনতা: রক্তে চিনির মাত্রা ওঠানামা করলে বা ইনসুলিনের সমস্যা থাকলেও ঘুমের মান খারাপ হয়। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর শক্তির অভাব হওয়ার এটি অন্যতম প্রধান কারণ।