“রাস্তার CCTV ক্যামেরাই কাল!”-কীভাবে খতম হলেন ইরানের সুপ্রিম লিডার খামেনেই?

আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর বিশ্বজুড়ে একটাই প্রশ্ন—কীভাবে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে এত নিখুঁত হামলা সম্ভব হল? ‘ফিনান্সিয়াল টাইমস’-এর একটি সাম্প্রতিক রিপোর্টে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। দাবি করা হয়েছে, গত কয়েক বছর ধরে তেহরানের রাজপথের ট্র্যাফিক ক্যামেরাগুলো আসলে ছিল ইজরায়েলি গোয়েন্দাদের নিয়ন্ত্রণে।

শত্রুর চোখ ছিল খামেনেইয়ের ড্রয়িং রুমে! রিপোর্ট অনুযায়ী, ইজরায়েলের সাইবার ইন্টেলিজেন্স ইউনিট ৮২০০ এবং কুখ্যাত গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ যৌথভাবে ইরানের টেক সিস্টেম হ্যাক করেছিল। শুধুমাত্র সিসিটিভি ক্যামেরাই নয়, ইরানের মোবাইল নেটওয়ার্কের অ্যাক্সেসও ছিল ইজরায়েলি গোয়েন্দাদের হাতে। এর ফলে খামেনেই এবং তাঁর নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতিটি পদক্ষেপের ওপর লাইভ নজরদারি চালাত তেল আবিব।

কীভাবে কাজ করত এই ‘ডিজিটাল ম্যাপ’? গোয়েন্দারা ১ বা ২ দিনে এই ছক কষেননি। বছরের পর বছর ধরে তেহরানের ট্র্যাফিক ক্যামেরা থেকে পাওয়া ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হতো। তৈরি করা হতো একটি ‘ডিজিটাল প্যাটার্ন’।

  • কোন নেতা কখন কার সঙ্গে দেখা করছেন?

  • কোন রুট দিয়ে খামেনেই চলাফেরা করেন?

  • কোন নির্দিষ্ট সময়ে বডিগার্ডরা শিফট পরিবর্তন করেন? এই সমস্ত তথ্য ইজরায়েলি সার্ভারে জমা হতো। ফলে খামেনেই কোথায় থাকতে পারেন, তার একটি নিখুঁত পূর্বাভাস বা ডিজিটাল ম্যাপ আগেভাগেই তৈরি করে ফেলেছিল আমেরিকা ও ইজরায়েল।

সিসিটিভি যখন ঘাতক অস্ত্র শহরজুড়ে নজরদারির জন্য লাগানো ক্যামেরাগুলোই শেষ পর্যন্ত ইরানের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াল। রিপোর্টে জানা গিয়েছে, হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে সিসিটিভি ফুটেজগুলো সরাসরি এক্সটার্নাল সার্ভারে পাঠিয়ে দিত হ্যাকাররা। এর সঙ্গে মোবাইল ডেটা যুক্ত হওয়ায় খামেনেইয়ের বর্তমান অবস্থান (Live Location) বুঝতে এক সেকেন্ডও দেরি হয়নি হামলাকারীদের।

এই প্রযুক্তিনির্ভর নিখুঁত গোয়েন্দা অপারেশনের ওপর ভিত্তি করেই ড্রোন বা মিসাইল হামলা চালানো হয়, যার জেরে প্রাণ হারান ইরানের এই প্রভাবশালী নেতা। এই ঘটনা প্রমাণ করে দিল, আধুনিক যুদ্ধে বন্দুকের চেয়েও বড় অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে ‘ডেটা’।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy