ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেইনির মৃত্যুর খবরে উত্তাল গোটা বিশ্ব। ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ হামলায় খামেইনি-সহ একাধিক শীর্ষ নেতার নিহতের খবর আসতেই মধ্যপ্রাচ্য ছাড়িয়ে প্রতিবাদের আগুন ছড়িয়েছে ভারত ও পাকিস্তানেও। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তড়িঘড়ি কলকাতার মার্কিন কনস্যুলেটের নিরাপত্তা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল লালবাজার।
কলকাতায় কড়া নিরাপত্তা:
শেক্সপিয়ার সরণি এলাকায় অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটের নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষ নির্দেশিকা জারি করেছেন পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকার। মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র্যাফ (RAF)। শনিবার ধর্মতলায় SUCI-এর বিক্ষোভ মিছিল পুলিশ আটকে দেওয়ার পর থেকেই নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় থানাকেও ২৪ ঘণ্টা সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অগ্নিগর্ভ কাশ্মীর ও পাকিস্তান:
খামেইনি হত্যার প্রতিবাদে শ্রীনগর ও লাদাখ-সহ কাশ্মীর জুড়ে স্বতঃস্ফূর্ত বনধ ও বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে উপত্যকার সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দু’দিনের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। অন্যদিকে, পাকিস্তানের করাচিতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১২০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। উত্তেজিত জনতা মার্কিন কনস্যুলেটে আগুন ধরিয়ে দেওয়ায় পরিস্থিতি চরমে পৌঁছেছে।
যুদ্ধের প্রেক্ষাপট:
ইরানের পরমাণু কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার ঘোষণার পরই শনিবার সকালে ইজরায়েল ও আমেরিকা যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। পাল্টা জবাবে দুবাই, দোহা ও রিয়াধের মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে ইরান। সব মিলিয়ে এক চরম অনিশ্চয়তা ও যুদ্ধের আবহে কাঁপছে বিশ্ব রাজনীতি।