রাজ্য রাজনীতিতে ফের অনুপ্রবেশ ইস্যু নিয়ে তোলপাড়। এবার কাঠগড়ায় পূর্ব বর্ধমানের কালনা। হাটকালনা গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান শ্রাবন্তী মণ্ডলের নাগরিকত্ব নিয়ে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন এবার এক নতুন মোড় নিল। সম্প্রতি সরকারি তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ পড়তেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি বিজেপি-র তোলা ‘বাংলাদেশি’ অভিযোগই শেষ পর্যন্ত সত্যি প্রমাণিত হতে চলেছে?
ঘটনার সূত্রপাত বেশ কিছু সময় আগে। বিজেপি-র পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে, হাটকালনা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শ্রাবন্তী মণ্ডল আদতে একজন বাংলাদেশি নাগরিক। তিনি অবৈধ উপায়ে সীমান্ত পার করে এদেশে ঢুকেছেন এবং জালিয়াতির মাধ্যমে ভারতীয় নথিপত্র তৈরি করে পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। শুধু তাই নয়, প্রভাব খাটিয়ে তিনি প্রধানের পদও দখল করেছেন বলে অভিযোগ তোলে গেরুয়া শিবির।
সেই সময় এই অভিযোগকে সরাসরি নস্যাৎ করে দিয়েছিলেন শ্রাবন্তী দেবী। অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে বলেছিলেন, “আমি বাংলাদেশি নই। আমি এই দেশেরই নাগরিক। যে বা যারা আমার বিরুদ্ধে এই ভিত্তিহীন অভিযোগ করছে, তারা আগে প্রমাণ করুক যে তারা এই দেশের বাসিন্দা কি না।” তৃণমূলের পক্ষ থেকেও তখন একে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করা হয়েছিল।
তবে বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন কথা বলছে। প্রশাসনের উচ্চপর্যায় থেকে ভেরিফিকেশনের পর তাঁর নাম তালিকা থেকে বাদ পড়তেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, সত্য চাপা থাকে না। তাদের অভিযোগ যে নির্ভুল ছিল, নাম বাদ পড়াই তার বড় প্রমাণ। অন্যদিকে, এই ঘটনায় চরম অস্বস্তিতে পড়েছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। প্রশাসনিক স্তরে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ওই প্রধানের ভবিষ্যৎ এখন বিশ বাঁও জলে। সাধারণ মানুষের মনেও প্রশ্ন জাগছে, একজন বিদেশি নাগরিক কীভাবে প্রশাসনের এত উচ্চ পদে আসীন হলেন?