সারাদিনের হাড়ভাঙা খাটুনির পর এক চিলতে ঘুম যেন স্বর্গসুখ। কিন্তু সেই সুখই যদি আপনার জীবনের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়? চিকিৎসকরা বলছেন, কম ঘুম যেমন শরীরের জন্য ক্ষতিকর, অতিরিক্ত ঘুম ঠিক ততটাই বিপজ্জনক। আপনি যদি প্রতিদিন ৯ ঘণ্টার বেশি সময় বিছানায় কাটান, তবে আজই সাবধান হওয়ার সময় এসেছে।
কেন অতিরিক্ত ঘুম ভয়ের কারণ?
চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘হাইপারসোমনিয়া’। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, যারা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ঘুমান, তাদের শরীরে বাসা বাঁধতে পারে একাধিক জটিল সমস্যা:
হৃদরোগের ঝুঁকি: অতিরিক্ত ঘুমের ফলে রক্তচাপ বৃদ্ধি পায় এবং হৃদপিণ্ডের কার্যক্ষমতা ব্যাহত হয়, যা অকাল হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।
ডায়াবেটিসের হানা: দীর্ঘক্ষণ নিষ্ক্রিয় অবস্থায় শুয়ে থাকলে শরীরের মেটাবলিজম ধীর হয়ে যায়। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি তৈরি হয়।
স্থূলতা ও ওজন বৃদ্ধি: আপনি যত বেশি ঘুমোবেন, ক্যালরি বার্ন হওয়ার সুযোগ তত কমবে। এর ফলে হু হু করে বাড়তে পারে শরীরের ওজন।
বিষণ্ণতা ও মানসিক ক্লান্তি: অবাক লাগলেও সত্যি যে, বেশি ঘুমালে মন ভালো হওয়ার বদলে উল্টো অবসাদ বা ডিপ্রেশন জেঁকে বসতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:
একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য দৈনিক ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমই যথেষ্ট। এর চেয়ে বেশি ঘুম হলে সেটি অলসতা নয়, বরং শরীরের কোনো অভ্যন্তরীণ সমস্যার সংকেত হতে পারে।
সম্পাদকীয় সতর্কবার্তা: শরীরকে সুস্থ রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম করুন এবং ঘুমের একটি নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলুন। ঘুমের ধরনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।