ঘুমের মধ্যে প্রস্রাবের স্বপ্ন দেখেই কি বিছানা ভিজছে? এই লজ্জার আড়ালে লুকিয়ে নেই তো বড় কোনো রোগ?

ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দেখছেন বাথরুমে গিয়েছেন এবং প্রস্রাব করছেন, কিন্তু বাস্তবে জেগে দেখলেন বিছানা ভিজে একসা—এই অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে। শিশুদের ক্ষেত্রে এটি স্বাভাবিক মনে করা হলেও, প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এটি চরম অস্বস্তি এবং লজ্জার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘নকচারনাল এনুরেসিস’ (Nocturnal Enuresis)। এটি কোনো চারিত্রিক দোষ নয়, বরং একটি শারীরিক ও মানসিক অবস্থা যা সঠিক পদক্ষেপে সমাধান সম্ভব।
কেন এমন হয়?
এডিএইচ (ADH) হরমোনের অভাব: রাতে আমাদের শরীরে অ্যান্টি-ডিউরেটিক হরমোন বৃদ্ধি পায় যা প্রস্রাব তৈরির গতি কমিয়ে দেয়। এই হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে রাতে শরীরে অতিরিক্ত প্রস্রাব তৈরি হয়।
মূত্রথলির ধারণক্ষমতা কমে যাওয়া: অনেকের মূত্রথলি বা ব্লাডার আকারে ছোট হয় অথবা সেখানে পেশির সংকোচন-প্রসারণে সমস্যা থাকে, ফলে সামান্য প্রস্রাব জমলেই তা ধরে রাখা কঠিন হয়।
অত্যধিক মানসিক চাপ: দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তা বা স্ট্রেসের ফলে মস্তিষ্ক গভীর ঘুমেও শরীরের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলতে পারে।
ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (UTI): প্রস্রাবে সংক্রমণ থাকলে ব্লাডার উত্তেজিত হয়ে পড়ে, যা ঘুমের মধ্যে অনিচ্ছাকৃত প্রস্রাবের কারণ হতে পারে।
অস্বস্তি থেকে মুক্তির ৫টি কার্যকরী সমাধান:
১. বিকেলের পর পানীয়তে নিয়ন্ত্রণ: দিনের বেলা পর্যাপ্ত জল পান করুন, তবে সূর্যাস্তের পর জল পানের পরিমাণ কমিয়ে দিন। বিশেষ করে শোওয়ার ২-৩ ঘণ্টা আগে জল বা তরল খাবার এড়িয়ে চলুন।
২. ক্যাফেইন বর্জন: চা, কফি বা অ্যালকোহল মূত্রথলিকে উদ্দীপিত করে এবং প্রস্রাবের বেগ বাড়ায়। রাতে শোওয়ার আগে এগুলো ভুলেও ছোঁবেন না।
৩. পেলভিক ফ্লোর ব্যায়াম (Kegel Exercise): এই ব্যায়াম আপনার মূত্রথলির পেশিকে শক্তিশালী করে, ফলে প্রস্রাব ধরে রাখার ক্ষমতা বাড়ে।
৪. ব্লাডার ট্রেনিং: দিনের বেলায় প্রস্রাবের বেগ আসলে কিছুক্ষণ ধরে রাখার অভ্যাস করুন। এতে ব্লাডারের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
৫. চিকিৎসকের পরামর্শ: যদি সমস্যাটি নিয়মিত হতে থাকে, তবে লজ্জা কাটিয়ে ইউরোলজিস্ট বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। অনেক সময় এটি ডায়াবেটিস বা স্লিপ অ্যাপনিয়ার প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।