সাসপেন্ড হয়েও অনড় ডালিয়া! ‘কমিশনের নির্দেশ মেনেই কাজ করেছি’, বিস্ফোরক দাবি ময়নাগুড়ির এআইআরও-র

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালীন প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় পদক্ষেপ নিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। ভোটার তালিকার পুনরীক্ষণ প্রক্রিয়ায় গাফিলতির অভিযোগে ময়নাগুড়ির অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (AERO) ডালিয়া রায়চৌধুরিকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই চাঞ্চল্য ছড়ায়। কিন্তু কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বিপরীতে কী বলছেন খোদ অভিযুক্ত আধিকারিক? সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের পক্ষ সাফ জানালেন তিনি।

কী বলছেন ডালিয়া রায়চৌধুরি? সাসপেন্ড হওয়ার পর কার্যত বিধ্বস্ত ডালিয়া দেবী দাবি করেন, তিনি কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করেননি। তাঁর কথায়, “নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আমাকে যে যে গাইডলাইন দেওয়া হয়েছিল, আমি সেই মেনেই কাজ করেছি। ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা বাতিলের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়েছিল। এরপরও কেন আমাকে সাসপেন্ড করা হলো, তা আমার বোধগম্য হচ্ছে না।” তিনি আরও যোগ করেন যে, কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে নয়, সম্ভবত যান্ত্রিক বা পদ্ধতিগত কোনো ভুলের দায় তাঁর ওপর চাপানো হচ্ছে।

কমিশনের অভিযোগ ও প্রেক্ষাপট সূত্রের খবর, ভোটার তালিকায় নাম সংশোধন এবং মৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে ময়নাগুড়ি ব্লকে বেশ কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়েছিল। কমিশনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের পর্যবেক্ষণে দেখা যায় যে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা হয়নি এবং তথ্যে ভুল রয়েছে। এর পরেই কড়া পদক্ষেপ হিসেবে ডালিয়া রায়চৌধুরিকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনিক মহলে গুঞ্জন ভোটের আগে এই ধরণের সাসপেনশন জেলা প্রশাসনের অন্য আধিকারিকদের ওপর মানসিক চাপ বাড়াবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। ডালিয়া রায়ের সমর্থনে কোনো কোনো সহকর্মী মুখ খুললেও, কমিশনের কড়া মনোভাব স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, নির্বাচনী কাজে কোনো রকম অবহেলা বরদাস্ত করা হবে না। এখন দেখার, ডালিয়া দেবী এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করেন কি না।