অ্যান্টিবায়োটিক খাচ্ছেন? ICMR-এর নতুন এই কড়া নিয়ম না মানলে শরীরে কাজ করবে না কোনো ওষুধ!

জ্বর, সর্দি বা সামান্য গলা ব্যথা হলেই আমরা হুটহাট অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে ফেলি। অনেক সময় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই বা চিকিৎসকরাও নিশ্চিত না হয়েই এই শক্তিশালী ওষুধ প্রেস্ক্রাইব করেন। কিন্তু এবার এই অভ্যাসে লাগাম টানতে কড়া নির্দেশিকা জারি করল ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (ICMR)।

ICMR-এর সাম্প্রতিক নির্দেশিকা অনুযায়ী, এখন থেকে কোনো রোগীর ক্ষেত্রে যতক্ষণ না পর্যন্ত রোগের ধরণ এবং নির্দিষ্ট প্যাথোজেন (ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস) শনাক্ত হচ্ছে, ততক্ষণ চিকিৎসকরা সরাসরি অ্যান্টিবায়োটিক দিতে পারবেন না।

কেন এই কড়া পদক্ষেপ?
অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (AMR): যখন ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসগুলো অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে, তখন সাধারণ অসুখও প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। একেই বলা হয় ‘সুপারবাগ’ পরিস্থিতি।

ভুল চিকিৎসা: ভাইরাল ফিভারে অ্যান্টিবায়োটিক কোনো কাজ করে না। অথচ অপ্রয়োজনে এই ওষুধ খেলে শরীরের উপকারী ব্যাকটেরিয়া মারা যায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।

ভবিষ্যতের আশঙ্কা: গবেষকদের মতে, এভাবেই অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার চলতে থাকলে ভবিষ্যতে ছোটখাটো অস্ত্রোপচার বা সামান্য ইনফেকশনও নিরাময় করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

ICMR-এর নির্দেশিকায় যা বলা হয়েছে:
১. ল্যাব টেস্ট বাধ্যতামূলক: সংক্রমণের উৎস নিশ্চিত করতে রক্ত বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় ল্যাবরেটরি পরীক্ষা করার পরেই অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া উচিত।
২. সীমিত ডোজ: অতি প্রয়োজনীয় ক্ষেত্র ছাড়া হাই-ডোজের অ্যান্টিবায়োটিক থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
৩. ফার্মাসিস্টদের ভূমিকা: চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া কাউন্টার থেকে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

সাধারণ মানুষের জন্য বিশেষ বার্তা:
নিজের বুদ্ধিতে বা পুরনো প্রেসক্রিপশন দেখে অ্যান্টিবায়োটিক কিনবেন না।

চিকিৎসকের দেওয়া কোর্সের মাঝপথে ওষুধ খাওয়া বন্ধ করবেন না; এতে রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকি বাড়ে।

সামান্য সর্দি-জ্বরে অন্তত ৩-৪ দিন অপেক্ষা করে দেখুন, এটি ভাইরাল কি না।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy