জলপাইগুড়িতে কলকাতা হাই কোর্টের সার্কিট বেঞ্চের নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তৈরি হল এক নজিরবিহীন মুহূর্ত। একই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই মঞ্চ থেকেই কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আর্থিক বঞ্চনা এবং ফাস্ট ট্র্যাক আদালতের বরাদ্দ বন্ধ করার অভিযোগে সরাসরি সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী।
মঞ্চে দাঁড়িয়েই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে তোপ রাজ্যের বিচার ব্যবস্থার উন্নয়নে পশ্চিমবঙ্গ সরকার যে ১,২০০ কোটি টাকা ব্যয় করেছে, তার খতিয়ান তুলে ধরেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রীর দিকে সরাসরি তাকিয়ে তিনি ক্ষোভের সুরে বলেন, “দয়া করে কিছু মনে করবেন না। ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠনের জন্য কেন্দ্রীয় বরাদ্দ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। দুঃখিত, আমাকে এটা বলতেই হল।” তিনি জানান, বর্তমানে রাজ্যে ৮৮টি ফাস্ট ট্র্যাক আদালত চলছে, যার মধ্যে ৫২টি মহিলাদের জন্য এবং বাকিগুলি পকসো ও মানবাধিকার সংক্রান্ত মামলার জন্য কাজ করছে। কেন্দ্রের সাহায্য ছাড়াই রাজ্য এই খরচ টানছে বলে তিনি দাবি করেন।
সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষার ডাক এদিন ভাষণে সংবিধানের চারটি স্তম্ভ—সংবিধান, নাগরিক, বিচারব্যবস্থা এবং সংবাদমাধ্যমকে রক্ষার ওপর জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী। উপস্থিত প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতিদের উদ্দেশ্যে তিনি আবেদন জানান, কোনো সংকট বা বিপর্যয়ের হাত থেকে যেন দেশের গণতন্ত্র ও সংবিধানকে রক্ষা করা হয়। তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, “আমরা আপনাদের হাতেই নিরাপদ। দেশ বাঁচান, সংবিধান বাঁচান।”
মিডিয়া ট্রায়াল নিয়ে উদ্বেগ আদালতের রায় ঘোষণার আগেই যেভাবে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ বা সংবাদমাধ্যমে বিচার শুরু হয়ে যাচ্ছে, তা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেন মমতা। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু সংস্থা জনমত প্রভাবিত করে অভিযুক্তের মানহানি করছে। বিচারপতিদের কাছে তাঁর সওয়াল, যাতে সাধারণ মানুষ বিচার পাওয়ার আগেই দোষী সাব্যস্ত না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে।





