১৫০০ শিশুকে পাচারকারীদের হাত থেকে বাঁচিয়ে ইতিহাস চন্দনার, পেলেন সর্বোচ্চ সম্মান!

রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্সের (RPF) অফিসার চন্দনা সিনহা আজ লখনউ তথা উত্তরপ্রদেশ রেল নেটওয়ার্কের এক পরিচিত নাম। কোনো কিশোর মুখ গোঁজ করে স্টেশনে বসে থাকলে বা কোনো শিশু পাচারকারীদের খপ্পরে পড়লে, ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন ৪১ বছরের এই নির্ভীক অফিসার। গত তিন বছরে তাঁর নেতৃত্বে উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন রেল স্টেশন থেকে প্রায় ১,৫০০ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ২০২৪ সালেই তাঁর দল ৪৯৪ শিশুকে নতুন জীবন দিয়েছে, যার মধ্যে চন্দনা একাহাতে উদ্ধার করেছেন ১৫২ জনকে।

স্বপ্নের উড়ান থেকে বাস্তবের ময়দান ছত্তিশগড়ের বিলাসপুরে বেড়ে ওঠা চন্দনার ছোটবেলার অনুপ্রেরণা ছিল টিভির জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘উড়ান’। তখনই ঠিক করেছিলেন পুলিশ হবেন। ২০১০ সালে আরপিএফ-এ যোগ দিয়ে স্বপ্ন পূরণ করেন তিনি। ২০২৪ সালে তাঁকে দেওয়া হয় ‘অপারেশন ননহে ফরিস্তে’-এর গুরুদায়িত্ব। আজ তিনি শুধু একজন পুলিশ অফিসার নন, নিখোঁজ শিশুদের কাছে বাস্তবের ‘দেবদূত’।

জীবন বদলে দেওয়া সেই ছট পুজো ২০২২ সালে দিল্লির রেলস্টেশনে ছট পুজোর ভিড়ে এক মা তাঁর তিন বছরের শিশুকে হারিয়ে ফেলেছিলেন। দুই ঘণ্টা হন্যে হয়ে খোঁজার পর চন্দনাই সেই শিশুকে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেন। সেই মুহূর্তটি চন্দনার জীবন বদলে দিয়েছিল। তারপর থেকে স্টেশনে কোনো শিশুকে একা ঘুরতে দেখলেই তাঁর সতর্ক দৃষ্টি স্থির হয়ে যায়। পাচারকারী হোক বা ঘরছাড়া অভিমানী কিশোর—চন্দনার ধৈর্যের কাছে হার মানে সব রহস্য।

দিল্লিতে রাজকীয় সম্মান গত ৯ জানুয়ারি চন্দনা সিনহার এই অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি দিয়েছে ভারতীয় রেল। দিল্লিতে তাঁকে ‘অতি বিশিষ্ট রেল সেবা পুরস্কার’-এ সম্মানিত করা হয়। কিন্তু সম্মানের মোহে তিনি থেমে থাকেননি। পুরস্কার নিয়ে লখনউ ফেরার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই খবর পান ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মে এক শিশু একা বসে আছে। ট্রফি তুলে রেখে সঙ্গে সঙ্গেই তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েন নিজের চিরপরিচিত ডিউটিতে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy