রাজস্থানের জয়পুরে ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে তুঙ্গে উঠল রাজনৈতিক উত্তেজনা। মুসলিম ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য প্রবল চাপের মুখে পড়ে আত্মহত্যার হুমকি দিলেন এক বুথ লেভেল অফিসার (BLO)। জয়পুরের হাওয়ামহল বিধানসভা কেন্দ্রের বিএলও কীর্তি কুমারের অভিযোগ, খসড়া তালিকা থেকে ৪৭০ জন ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার জন্য বিজেপির পক্ষ থেকে তাঁর ওপর অসহনীয় চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এই ৪৭০ জনই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এবং এটি ওই বুথের মোট ভোটারের প্রায় ৪০ শতাংশ।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি অডিও ক্লিপে (যার সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি) কীর্তি কুমারকে বিজেপি কাউন্সিলর সুরেশ সাইনির সাথে উত্তেজিত হয়ে কথা বলতে শোনা যায়। সেখানে তিনি চিৎকার করে বলেন, “আমি কালেক্টরের অফিসে গিয়ে আত্মহত্যা করব।” ক্ষুব্ধ ওই অফিসারকে বলতে শোনা যায়, “পুরো বস্তির নামই যদি বাদ দিয়ে দিই, তাহলে আপনাদেরই সুবিধা হবে, ‘মহারাজ’ও অনায়াসে জিতে যাবেন।” উল্লেখ্য, এখানে ‘মহারাজ’ বলতে ওই কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক তথা বিতর্কিত পুরোহিত বালমুকুন্দ আচার্যকে বোঝানো হয়েছে, যিনি গত নির্বাচনে মাত্র ৯৭৪ ভোটে জয়ী হয়েছিলেন।
সরকারি স্কুলের শিক্ষক কীর্তি কুমারের দাবি, তিনি ইতিপূর্বেই সমস্ত নথি যাচাই করেছিলেন এবং সেখানে কোনো ত্রুটি ছিল না। তা সত্ত্বেও মাত্র দু’দিনের মধ্যে এই বিপুল সংখ্যক নাম বাদ দেওয়ার জন্য বিজেপি নেতারা তাঁকে সাসপেন্ড করার হুমকি দিচ্ছেন। কুমার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “সার প্রক্রিয়ার সময় আমাদের রক্ত জল হয়ে গিয়েছে। আমি এমন কোনো পাপ কাজ করতে পারব না যা ভোটারদের অধিকার কেড়ে নেয়।” অন্যদিকে, হিন্দু অধ্যুষিত পার্শ্ববর্তী পাঁচটি বুথে একটিও আপত্তি জমা না পড়ায় এই ঘটনার নেপথ্যে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের রাজনীতি দেখছে ওয়াকিবহাল মহল।





