২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে উত্তরবঙ্গে রণসংকল্প শুরু করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার কোচবিহারের হাই-ভোল্টেজ সভা থেকে তিনি সাফ ঘোষণা করলেন, “কোচবিহার থেকে বিজেপিকে উপড়ে ফেলা এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। আজকের এই জনজোয়ারই হলো বিজেপির বিসর্জনের শুভ সূচনা।”
মঞ্চে জ্যান্ত ‘মৃত’রা! কমিশনকে কড়া আক্রমণ
এদিনের সভার সবচেয়ে নাটকীয় ও চাঞ্চল্যকর মুহূর্ত ছিল যখন অভিষেক মঞ্চে ১০ জন স্থানীয় বাসিন্দাকে ডেকে নেন। তাঁর অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে (SIR) রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র করে এই জীবিত ব্যক্তিদের ‘মৃত’ হিসেবে দেখিয়ে তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। জনতাকে লক্ষ্য করে তাঁর প্রশ্ন, “এঁদের দেখে কি মৃত মনে হচ্ছে?” এরপরই নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করে তিনি বলেন, “আমি আপনাকে প্রশ্ন করেছিলাম, আপনি উত্তর দেননি। মনে রাখবেন, আপনি মনোনীত, আর আমি মানুষের দ্বারা নির্বাচিত।”
এক দশকে ‘শূন্য’ প্রাপ্তি, বঞ্চনার অভিযোগ
বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারকে ‘বহিরাগত জমিদার’ আখ্যা দিয়ে অভিষেক মনে করিয়ে দেন গত এক দশকে দেওয়া গেরুয়া শিবিরের একাধিক প্রতিশ্রুতির কথা। তাঁর তোপ:
নারায়ণী ব্যাটালিয়ন: প্রতিশ্রুতি দিলেও তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি।
মদনমোহন মন্দির: আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবি স্রেফ নির্বাচনী গিমিক হয়েই রয়ে গেছে।
উন্নয়ন বনাম বঞ্চনা: কেন্দ্র টাকা আটকে রাখলেও রাজ্য সরকার কোচবিহারের রাস্তাঘাটের জন্য ৩৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। ৩ মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
মদনমোহন মন্দিরে পুজো ও রাজনৈতিক বার্তা
সভার আগে ঐতিহাসিক মদনমোহন মন্দিরে পুজো দেন অভিষেক। সেখান থেকেই তিনি বার্তা দেন যে, মানুষের কাছে পৌঁছানোর লড়াই কোচবিহার থেকেই শুরু হয়েছিল এবং এখান থেকেই উত্তরবঙ্গকে ‘বিজেপি মুক্ত’ করার প্রক্রিয়া পূর্ণতা পাবে।
তৃণমূলের দাবি, উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিতে কোচবিহারের এই ‘রণসংকল্প’ সভা মাইলফলক হয়ে থাকবে। অন্যদিকে, অভিষেকের হোর্ডিংয়ে ‘যুবরাজ’ সম্বোধন নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি নেতৃত্বও। সব মিলিয়ে ২০২৬-এর আগে উত্তরবঙ্গের মাটি যে উত্তপ্ত হতে চলেছে, তার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলল এদিনের সভা থেকেই।





