২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বঙ্গ রাজনীতিতে চরম সংঘাত। জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একের পর এক চিঠি পাঠানো নিয়ে এবার নজিরবিহীন আক্রমণ শানালেন বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর সাফ কথা, “তৃণমূল কংগ্রেস আর নেই, দলটা কার্যত চলে গিয়েছে।”
কমিশনকে মমতার ‘পঞ্চম’ চিঠি ও শমীকের তোপ রাজ্যে নির্বাচনের আবহে একাধিক অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে এই নিয়ে পাঁচ নম্বর চিঠি পাঠিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনাকে কটাক্ষ করে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “চিঠি লিখে কারও মন ভেজানো যাবে না। মানুষ তৃণমূলের আসল রূপ বুঝে গিয়েছে।” বিজেপি রাজ্য সভাপতির দাবি, পরাজয় নিশ্চিত বুঝেই এখন চিঠির রাজনীতিতে আশ্রয় নিচ্ছে শাসক দল।
‘রাজ্যে সরকার নেই, চলছে অরাজকতা’ এদিন শুধু চিঠি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েই ক্ষান্ত হননি শমীক। তিনি সরাসরি রাজ্য প্রশাসনকে কাঠগড়ায় তুলে বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে সরকার বলে আদতে কিছু নেই। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার নথিপত্র ছিনতাই করেছেন।” তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে এখন সম্পূর্ণ অরাজকতা চলছে এবং প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বলে কিছু অবশিষ্ট নেই।
নির্বাচনী হাওয়া ও বাগযুদ্ধ জানুয়ারি মাসের হাড়কাঁপানো ঠান্ডাতেও ভোট-রাজনীতির উত্তাপ এখন তুঙ্গে। একদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যখন ডিজিটাল যোদ্ধাদের নিয়ে ২৫০ আসনের টার্গেট দিচ্ছেন, অন্যদিকে শমীক ভট্টাচার্যের এই ‘তৃণমূল নেই’ তত্ত্ব রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। বিজেপি নেতার এই আক্রমণাত্মক মেজাজ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আগামী দিনগুলোতে ঘাসফুল বনাম পদ্ম শিবিরের লড়াই আরও তিক্ত হবে।





