কলকাতায় ক্রিসমাস ফিভার! নিউ মার্কেটে সান্তার টুপির দাম কত? পকেট বাঁচিয়ে শপিংয়ের আগে জেনে নিন

ক্যালেন্ডারের পাতায় উঁকি দিচ্ছে ২৫ ডিসেম্বর। সপ্তাহ ঘুরলেই বড়দিন। আর উৎসবের সেই রোশনাইয়ে ইতিমধ্যেই ভাসছে তিলোত্তমা। আলোকমালায় সেজে উঠছে পার্ক স্ট্রিট থেকে ধর্মতলা। তবে বড়দিন মানেই যে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে সান্তাক্লজ এবং উপহারের ডালি, তার পসরা সাজিয়ে এখন জমজমাট কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকা।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য ছবি
কলকাতার সংস্কৃতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো তার সর্বধর্ম সমন্বয়। আর তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে বড়দিনের কেনাকাটার বাজারেও। দুর্গাপুজো হোক বা ইদ, কিংবা বড়দিন—কলকাতার উৎসবে কোনো ধর্মের কাঁটাতার নেই। ধর্মতলার ফুটপাতে যখন মহম্মদ ইসমাইল, শাবির আহমেদ বা মহম্মদ সাদেকরা ক্রিসমাস ট্রি আর সান্তার টুপি সাজিয়ে বসেন, তখনই স্পষ্ট হয়ে যায় এই শহরের আসল সৌন্দর্য। রুটি-রুজির টানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ সামিল হচ্ছেন উৎসবের এই মহাযজ্ঞে।
পকেটে কতটা টান পড়বে? একনজরে বাজার দর
নিউ মার্কেটের দোকানগুলোতে এখন লাল-সাদা টুপি আর ক্রিসমাস ট্রির ছড়াছড়ি। তবে সাধারণ মধ্যবিত্তের পকেটে কি এবার টান পড়বে? এক নজরে দেখে নেওয়া যাক কীসের কত দাম:
সান্তা টুপি: ৩০ থেকে ৫০ টাকা।
ক্রিসমাস ট্রি: ২০০ টাকা থেকে শুরু করে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত (আকার অনুযায়ী)।
স্টার ও বেল: ৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা।
ঘর সাজানোর সরঞ্জাম: নানা রঙের প্লাস্টিক চেন ও শোপিস পাওয়া যাচ্ছে সাধ্যের মধ্যেই।
ক্রেতা বনাম বিক্রেতা: চড়া দামের মাঝেও উৎসাহ তুঙ্গে
বাজারে কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতা অতিস মণ্ডলের দাবি, “গত বছরের তুলনায় জিনিসের দাম বেশ চড়া। গতবার ১৫০০ টাকায় যা জিনিস পেয়েছিলাম, এবার তা পেতে প্রায় দ্বিগুণ খরচ হচ্ছে।” অন্যদিকে, সন্দীপ চৌধুরীর মতো ক্রেতারা দাম বাড়লেও উৎসবের আনন্দে খামতি রাখতে নারাজ। ঘর সাজানোর সরঞ্জাম কিনে সরাসরি তাদের গন্তব্য এখন শহরের নামী কেকের দোকানগুলো।
বিক্রেতারা অবশ্য কিছুটা সাফাই দিচ্ছেন। শাবির আহমেদের কথায়, “কাঁচামালের দাম বাড়ায় সাজসজ্জার জিনিসের দাম সামান্য বেড়েছে। এটা মরশুমের ব্যবসা, বড়দিন চলে গেলে কাস্টমার পাওয়া মুশকিল। তবে বিক্রি ভালো হচ্ছে।” মহম্মদ ইসমাইলের আশা, আগামী কয়েক দিনে ভিড় আরও বাড়বে এবং সান্তা টুপির চাহিদাই থাকবে সবার উপরে।
২০২৬-কে বরণ করে নেওয়ার এই প্রস্তুতির আবহে এখন একটাই সুর—তিলোত্তমা সেজে উঠছে আলোর বন্যায়, আর বাঙালির হুল্লোড় শুরু হয়ে গিয়েছে ঠিক সময় মতোই।