গত ১০ নভেম্বর দিল্লির লাল কেল্লার কাছে ভয়াবহ গাড়ি বিস্ফোরণের তদন্তে নতুন মোড়। দিল্লি পুলিশ উত্তরাখণ্ডের হলদওয়ানির বনভূলপুরা এলাকা থেকে বিলালি মসজিদের ইমামকে গ্রেফতার করেছে। অভিযোগ, বিস্ফোরণে মারা যাওয়া মূল সন্দেহভাজন ডক্টর উমর উন নাবি-র মোবাইলের কল ডিটেলস পরীক্ষা করে ইমামের সঙ্গে একাধিকবার কথোপকথনের লিঙ্ক পাওয়া গেছে।
রাত দেড়টায় রেইড, ইমামকে দিল্লি নিয়ে গেল পুলিশ:
গতকাল রাত দেড়টার দিকে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল টিম হঠাৎ হলদওয়ানির মুসলিম-অধ্যুষিত বনভূলপুরা এলাকায় পৌঁছায়। সেখান থেকে পুলিশ সরাসরি বিলালি মসজিদের ইমামকে আটক করে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দিল্লিতে নিয়ে যায়। স্থানীয় এসপি মনোজ কুমার কটিয়াল এই অভিযান নিশ্চিত করেছেন। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, বিস্ফোরণের আগের দিনগুলোতে এই কলগুলো লজিস্টিক সাহায্য বা তথ্য বিনিময়ের জন্য করা হয়েছিল।
বিস্ফোরণের মূল কাহিনি ও ষড়যন্ত্র:
১০ নভেম্বরের রাতে লাল কেল্লার কাছে একটি সাদা হায়ুন্দাই আই২০ গাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটে, যাতে গাড়ির চালক-সহ ১৫ জন নিহত হন। নিহত চালক ছিলেন ডক্টর উমর উন নাবি, যিনি কাশ্মীরি ডাক্তার এবং ফরিদাবাদের আল-ফালাহ ইউনিভার্সিটির অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ছিলেন। পুলিশের মতে, উমর ফরিদাবাদে বাস্তবায়িত একটি ‘হোয়াইট কলার’ টেরর মডিউলের সদস্য ছিলেন।
-
লক্ষ্য ছিল বড় হামলা: তদন্তে জানা যায়, এই মডিউলের পরিকল্পনায় ছিল বাবরি মসজিদ ভেঙে দেওয়ার বার্ষিকীতে (৬ ডিসেম্বর) হামাস-স্টাইলের ড্রোন আক্রমণ এবং ছোট রকেট হামলা চালানো।
-
অন্যান্য সন্দেহভাজন: এই মডিউলের সঙ্গে যুক্ত অন্য সন্দেহভাজনরা হলেন ডক্টর মুজাম্মিল গানাই, ডক্টর আদিল রাদার এবং জাসির বিলাল ওয়ানি।
-
এনআইএ তদন্ত: ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব নিয়েছে এনআইএ (ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি)। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৯ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ড্রোন মডিফাই করে আক্রমণের প্রযুক্তিগত সাহায্য দেওয়ার অভিযোগে কাশ্মীরের কাজিগুণ্ডের বাসিন্দা জাসির বিলাল ওয়ানিকে ১০ দিনের কাস্টডিয়াল জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি পেয়েছে এনআইএ। উমরের সঙ্গে ওয়ানির যোগাযোগ অক্টোবর ২০২৪-এ কুলগামের এক মসজিদে শুরু হয়েছিল, যা পরে ফরিদাবাদের একটি ভাড়া বাড়িতে স্থানান্তরিত হয়।