‘সাহস থাকলে বৈঠক লাইভ হোক!’ EC-কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ অভিষেকের, কমিশনের শর্ত মানতে নারাজ ঘাসফুল শিবির

বাংলায় ভোটার তালিকায় বিশেষ পরিমার্জন বা ‘এসআইআর’ (Special Integrated Revision) প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশন (EC) এবং তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) সংঘাত চরমে পৌঁছেছে। বৈঠকে বসার জন্য কমিশনের বেঁধে দেওয়া প্রতিনিধি সংখ্যার শর্ত সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ঘাসফুল শিবির।
মঙ্গলবার সকালেই নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, আগামী ২৮ নভেম্বর শুক্রবার তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করতে তারা রাজি, তবে সেই দলে মাত্র পাঁচজন সদস্য থাকতে পারবেন। কিন্তু সেদিন বিকেলেই কমিশনের সেই ‘পাঁচ জনের শর্ত’ উড়িয়ে পালটা চিঠি দিয়েছে তৃণমূল। সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, পাঁচজন নয়, দলের ১০ জন সাংসদই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের (CEC) দফতরে যাবেন।
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে এদিন রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি পাঠিয়েছেন। সেই চিঠিতে ১০ জন সাংসদ— ডেরেক ছাড়াও শতাব্দী রায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল, সাজদা আহমেদ, মমতাবালা ঠাকুর, মহুয়া মৈত্র, সাকেত গোখলে এবং প্রকাশ চিক বরাইকের নাম ও বিবরণ জমা দেওয়া হয়েছে।
অভিষেকের চরম ক্ষোভ ও চ্যালেঞ্জ:
কমিশনের ‘পাঁচ জনের শর্ত’ সামনে আসতেই সোশাল মিডিয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি নির্বাচন কমিশনকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে লেখেন, “১০ জন সাংসদের জন্য সময় চাওয়া হয়েছিল। তাঁরা ভারতের জনগণের দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধি। আর মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং কমিশনাররা ভারত সরকারের দ্বারা মনোনীত (হ্যান্ড-পিকড)।”
স্বচ্ছতার দোহাই দেওয়া শর্তকে ‘লোক দেখানো’ আখ্যা দিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যদি কমিশন সত্যিই স্বচ্ছ হয়, তবে ১০ জন সাংসদের মুখোমুখি হতে ভয় কেন? সাহস থাকলে বৈঠকটি সবার সামনে উন্মুক্ত রাখা হোক এবং ‘লাইভ টেলিকাস্ট’ করা হোক।” তিনি আরও জিজ্ঞাসা করেন, “তৃণমূলের পাঁচটি নির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তর কি কমিশন দিতে প্রস্তুত, নাকি তারা শুধুই বন্ধ দরজার আড়ালে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে?”
তৃণমূলের অভিযোগ, বাংলায় ‘অপরিকল্পিত’ ভাবে এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্কিত। এই বিষয়ে কমিশনের জবাবদিহি চাইতে শুক্রবার বেলা ১১টায় এই হাই-প্রোফাইল প্রতিনিধি দলটি দিল্লি যাচ্ছে। এখন দেখার, ১০ জন সাংসদকে নিয়ে অনড় তৃণমূলের সামনে নির্বাচন কমিশন তাদের দরজা খোলে কি না।