১৭ বছর পরও দগদগে ক্ষত! মুম্বই হামলার পিছনে আসল টার্গেট কী ছিল? জানুন অজানা তথ্য

আজ থেকে ঠিক ১৭ বছর আগে, ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর, পাকিস্তানি মদতপুষ্ট ১০ জঙ্গি মুম্বইকে রক্তস্নাত করেছিল। টানা তিন দিন ধরে চলা সেই নারকীয় তাণ্ডবে প্রাণ হারিয়েছিলেন ১৬৪ জন, আহত হন ৩০০-এরও বেশি মানুষ। দেশের আর্থিক রাজধানীতে ঘটে যাওয়া এই হামলার ক্ষত আজও অম্লান।
টার্গেটে কেন বিলাসবহুল হোটেল ও রেল স্টেশন?
হামলাকারীদের লক্ষ্য ছিল সুপরিকল্পিত। তাজ (Taj) এবং ওবেরয় (Oberoi) হোটেলের মতো বিলাসবহুল স্থানগুলিকে বেছে নেওয়া হয়েছিল, কারণ এগুলি ছিল বিদেশি নাগরিকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। একইসঙ্গে, ছত্রপতি শিবাজী মহারাজ টার্মিনাস (CSMT) ছিল মুম্বইয়ের কর্মজীবী ও সাধারণ মানুষের প্রধান সমাগমস্থল, যেখানে বহু সংখ্যক মানুষের ক্ষতিসাধন সহজ ছিল। নারিমান হাউসের ইহুদি কেন্দ্রকে বেছে নেওয়া হয়েছিল একটি বিশেষ সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে। এর পাশাপাশি কামা হাসপাতাল (Cama Hospital), মেট্রো সিনেমা (Metro Cinema) এবং লিওপোল্ড ক্যাফের মতো স্থানেও হামলা চালানো হয়, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা এবং আন্তর্জাতিক স্তরে খবর পৌঁছে দেওয়া।
স্মৃতিতে অম্লান সেই ক্ষতচিহ্ন
সেই ভয়াবহ সন্ত্রাসের ক্ষতচিহ্ন আজও মুম্বইয়ের বুকে দগদগে। লিওপোল্ড ক্যাফে এবং নারিমান হাউসের দেওয়ালে এখনও বুলেটের আঘাতের চিহ্ন সেই দিনের নৃশংসতার সাক্ষী। একমাত্র জীবিত জঙ্গি মহম্মদ আজমল আমির কাসাবকে পাকড়াও করার সময় নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর তুকরাম ওম্বলে। তাঁর আবক্ষ মূর্তি দক্ষিণ মুম্বইয়ের রাজপথে সেই বীরত্বের স্মৃতিকে আজও জাগিয়ে রেখেছে।
সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ‘নেভারএভার’ শপথ
২৬/১১ মুম্বই হামলার পর আজ ভারত জাতীয় নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে আরও একবার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এই শহিদ, ভুক্তভোগী ও জীবিতদের সম্মান জানাতে আজ ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড (NSG) মুম্বইয়ের গেটওয়ে অফ ইন্ডিয়াতে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (MHA) সূত্রে জানা গেছে, এই স্মরণ ও শপথ অনুষ্ঠানের মূল ভাবনা হল ‘নেভারএভার’ (‘Neverever’)। এর মাধ্যমে জাতি আরও একবার সংকল্প নিচ্ছে যে, ভবিষ্যতে ভারতের মাটিতে যেন আর কখনওই এমন ভয়াবহ জঙ্গি হামলা না ঘটে।