‘বারবার অস্বীকার করলেও সত্য বদলাবে না’—অরুণাচল নিয়ে বেইজিংকে কড়া বার্তা নয়াদিল্লির

অরুণাচল প্রদেশের এক ভারতীয় মহিলা যাত্রীকে সাংহাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ১৮ ঘণ্টা আটক রেখে হয়রানি করার অভিযোগের পর ভারত ও চিনের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। চিন যদিও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং অরুণাচল প্রদেশকে আবারও নিজেদের অংশ ‘জাংনান’ বলে দাবি করেছে। এর কড়া জবাব দিয়েছে ভারত।

ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA) স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, চিনের বারবার অস্বীকার সত্ত্বেও সত্য পরিবর্তন হবে নাঅরুণাচল প্রদেশ ভারতের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ

কী বললেন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র?

 

ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল চিনের দাবির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “আমরা অরুণাচল প্রদেশের একজন ভারতীয় নাগরিককে আটক করার বিষয়ে চিনা বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতি দেখেছি। ওই মহিলার বৈধ ভারতীয় পাসপোর্ট ছিল এবং তিনি সাংহাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে জাপানে যাচ্ছিলেন। অরুণাচল প্রদেশ ভারতের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, এবং এটি একটি স্পষ্ট বক্তব্য। চিনের অস্বীকৃতি এই স্পষ্ট সত্যকে পরিবর্তন করবে না।

তিনি আরও জানান, এই মহিলাকে আটকের বিষয়ে চিনের কাছে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। এই কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক বিমান ভ্রমণ নিয়ন্ত্রণকারী বহু নিয়ম লঙ্ঘন করেছে এবং এমনকি চিনের নিজস্ব নিয়মকেও লঙ্ঘন করে, যা সমস্ত দেশের নাগরিকদের ২৪ ঘণ্টা ভিসা-মুক্ত ট্রানজিট ভ্রমণের অনুমতি দেয়।

১৮ ঘণ্টার দুঃস্বপ্ন: ঠিক কী ঘটেছিল ২১ নভেম্বর?

 

বিতর্কের সূত্রপাত হয় ২১ নভেম্বর। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিক পেমা ওয়াংজম থংডক লন্ডন থেকে জাপানে যাওয়ার পথে সাংহাই বিমানবন্দরে ট্রানজিট করছিলেন।

  • দীর্ঘসময় আটক: তিন ঘণ্টার ট্রানজিট যাত্রাকে চীনা অভিবাসন কর্মকর্তারা ১৮ ঘণ্টার দুঃস্বপ্ন বানিয়ে দেন।

  • পাসপোর্ট ‘অবৈধ’: তাঁর পাসপোর্ট ‘অবৈধ’ ঘোষণা করা হয়, কারণ তাতে তাঁর জন্মস্থান হিসেবে অরুণাচল প্রদেশের নাম উল্লেখ করা ছিল।

  • হুমায়ূন: কোনও বৈধ কারণ ছাড়াই ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাঁকে আটকে রাখা হয়েছিল। পরে তিনি সাংহাইয়ের ভারতীয় কনস্যুলেটের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

সাংহাইয়ের ভারতীয় কনস্যুলেট স্থানীয়ভাবে হস্তক্ষেপ করে এবং মহিলাকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়। এই ঘটনার দিনই নয়াদিল্লি বেইজিং এবং দিল্লিতে অবস্থিত চিনা দূতাবাস—উভয়ের কাছে তীব্র প্রতিবাদ জানায়।

মুখ্যমন্ত্রী ক্ষুব্ধ, চিনের অস্বীকার

 

অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু এই ঘটনায় মর্মাহত হয়ে এটিকে আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘন এবং ভারতীয় নাগরিকদের প্রতি অপমান বলে অভিহিত করেছেন।

যদিও চিনা বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মাও নিং অভিযোগগুলি সম্পূর্ণরূপে খারিজ করেছেন। তিনি দাবি করেন, কোনও জোর, আটক বা হয়রানি করা হয়নি এবং চিনা কর্তৃপক্ষ নিয়ম মেনে কাজ করেছে। তবে একই সঙ্গে তিনি বেইজিংয়ের দীর্ঘদিনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন যে, “জাংনান চিনের অংশ এবং ভারতের তৈরি তথাকথিত অরুণাচল প্রদেশ সত্তাকে চিন স্বীকৃতি দেয় না।”