প্রশাসনিক বিভ্রান্তি দূর করতে কেন্দ্রের পদক্ষেপ! চণ্ডীগড় বিল ঘিরে পাঞ্জাবের সঙ্গে কেন্দ্রের সম্পর্ক নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল

আসন্ন শীতকালীন অধিবেশনকে সামনে রেখে নরেন্দ্র মোদী সরকার ঐতিহাসিক প্রশাসনিক সংস্কারের পথে হাঁটছে। তারই ইঙ্গিত মিলল নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিলের ঘোষণায়। কেন্দ্র এবার ভারতীয় সংবিধানের ১৩১তম সংশোধনী বিল আনতে চলেছে, যা পাস হলে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল চণ্ডীগড়ের প্রশাসনে বড়সড় পরিবর্তন আসতে চলেছে।

পাঞ্জাবের রাজ্যপালের হাতে আর নয় প্রশাসন

বর্তমানে চণ্ডীগড় প্রশাসনের দায়িত্বে থাকেন পাঞ্জাবের রাজ্যপাল। স্বাধীন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল (UT) হওয়া সত্ত্বেও চণ্ডীগড়ের শাসন কাঠামো অন্যান্য কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের থেকে আলাদা হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তা সমালোচনার মুখে ছিল।

এবার কেন্দ্রের উদ্যোগে এই পরিস্থিতি বদলাতে চলেছে। বিলটি পাস হলে চণ্ডীগড় সংবিধানের ২৪০ অনুচ্ছেদের অন্তর্ভুক্ত হবে। এর ফলে লাক্ষাদ্বীপ, দমন-দিউ বা আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের মতো এখানেও পাঞ্জাবের রাজ্যপালের বদলে একজন স্বাধীন প্রশাসক (Administrator) নিযুক্ত হবেন।

প্রশাসনিক স্বচ্ছতা আনাই মূল লক্ষ্য

সরকারি সূত্রের দাবি, এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো চণ্ডীগড়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, দ্রুত কার্যকরী এবং লক্ষ্যনির্ভর করা। কেন্দ্রীয় আধিকারিকদের মতে, পাঞ্জাব রাজ্যপাল একই সঙ্গে পাঞ্জাব ও চণ্ডীগড়ের দায়িত্ব সামলানোয় বহু নীতিগত সিদ্ধান্তে জটিলতা সৃষ্টি হয়।

কেন্দ্রের শীর্ষ পর্যায়ের এক আধিকারিক জানান, “এই সংশোধন বিল চণ্ডীগড়ের জন্য বহু বছর ধরে প্রয়োজন ছিল। প্রশাসনিক বিভ্রান্তি দূর হলে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সাধারণ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন।” সরকার মনে করছে, চণ্ডীগড়কে অন্যান্য কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রশাসনিক মডেলের মধ্যে আনলে শাসনে ধারাবাহিকতা আসবে এবং নীতি প্রয়োগে জটিলতা কমবে।

রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন

এই বিলের প্রস্তাব সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন শুরু হয়েছে। বিলের সমর্থকরা একে ‘পেন্ডিং স্ট্রাকচারাল কারেকশন’ বা দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা কাঠামোগত সংশোধন বলে অভিহিত করছেন।

অন্যদিকে, বিরোধীদের একটি অংশ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছে, এই বিল আনা হলে কেন্দ্র-পাঞ্জাব সম্পর্কের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে পারে, কারণ চণ্ডীগড় দীর্ঘদিন ধরেই পাঞ্জাবের সাংবিধানিক উত্তরাধিকার দাবির অংশ। যদিও সরকার স্পষ্ট করেছে, এটি কোনো রাজনৈতিক পদক্ষেপ নয়, বরং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ। বিলটি পাস হলে চণ্ডীগড়ের বাসিন্দারাও সরাসরি প্রশাসনিক সুবিধা পাবেন বলে মনে করা হচ্ছে।