মাছ-কাঁকড়া ধরে চলে সংসার! স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ১০০০ টাকায় কী হবে, বাঘের হানায় দৃষ্টি হারানো গণেশের অসহায় আর্তি

প্রায় আট মাস আগে লোকালয়ে চলে আসা বাঘকে তাড়াতে গিয়ে বাঘের আক্রমণে দৃষ্টিশক্তি হারানোর পর চরম অনিশ্চিত জীবন কাটাচ্ছেন কুলতলির মৈপিঠ কোষ্টাল থানা এলাকার বাসিন্দা গণেশ শ্যামল। দুঃস্থ ও দরিদ্র এই মানুষটির এখন একমাত্র ভরসা তাঁর স্ত্রীর নদীতে মাছ ও কাঁকড়া ধরে আনা উপার্জন।

জানা গিয়েছে, প্রায় আট মাস আগে কুলতলি এলাকায় লোকালয়ে বাঘ চলে আসে। বন দফতর ও স্থানীয় যুবকদের সঙ্গে বাঘকে জঙ্গলে ফেরানোর কাজে যোগ দিয়েছিলেন ৫৫ বছর বয়সী গণেশ শ্যামল। সেই সময় বাঘের আতঙ্কে এক বৃদ্ধ সজনে গাছের মগডালে উঠে পড়েন। গণেশ বিষয়টি বুঝতে না পেরে বৃদ্ধকে গাছ থেকে নামানোর চেষ্টা শুরু করেন। আর ঠিক সেই সময়ই ঘাপটি মেরে লুকিয়ে থাকা বাঘ ঝাঁপিয়ে পড়ে গণেশের উপর।

বাঘের আক্রমণে গণেশ শ্যামল গুরুতর জখম হন। এই ঘটনায় তিনি তাঁর একটি চোখ সম্পূর্ণ অন্ধ হয়ে যায়, এবং অন্য চোখের প্রায় ৯০ শতাংশ দৃষ্টিও হারান। বাঘ তাড়াতে গিয়ে অন্ধত্বের অভিশাপ নিয়ে আসা এই অসহায় মানুষটির পাশে এখন আর কেউ নেই।

স্ত্রীর উপার্জনে চলে সংসার

জীবনের এই কঠিন পরিস্থিতিতে গণেশের সংসার চালানোর ভার গিয়ে পড়েছে একমাত্র রোজগেরে স্ত্রী-র উপর। স্ত্রীকে এখন লোকের বাড়িতে কাজ করতে হয় এবং পেটের দায়ে নদীতে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে যেতে হয়। গণেশ স্ত্রীর হাত ধরেই বেঁচে থাকার কঠিন লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

যদিও এই অনিশ্চয়তার মধ্যে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গণেশের পাশে দাঁড়িয়েছে। তারা যতদিন গণেশ জীবিত থাকবেন, ততদিন প্রতি মাসে এক হাজার টাকা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। কিন্তু পরিবারের প্রশ্ন, এই সামান্য এক হাজার টাকায় কিভাবে তাঁর সংসার চলবে? তবে এই প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। বাঘের হানায় দৃষ্টি হারানো এই দুঃস্থ মানুষটির জীবন এখন পুরোপুরি ভাগ্যের উপর নির্ভরশীল।