মুম্বাইয়ের দিকে ধেয়ে আসছে লাখ লাখ মারাঠা! ১২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বড় নাশকতার হুংকার মনোজ জারঙ্গের

মারাঠা সংরক্ষণ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ফের চরম উত্তাপ ছড়াল মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে। কুনবি শংসাপত্রের মাধ্যমে স্থায়ী সংরক্ষণের দাবিতে রাজ্য সরকারকে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চরম সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন আন্দোলনের প্রবীণ নেতা মনোজ জারঙ্গে পাতিল। তাঁর হুংকার, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দাবি না মানলে সাঁড়াশি কায়দায় মুম্বাই অভিমুখে পদযাত্রা করবে লক্ষ লক্ষ মারাঠা জনতা এবং প্রয়োজনে বাণিজ্যনগরীকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলা হবে।

মারাঠাদের এই সম্ভাব্য আন্দোলন নিয়ে মহারাষ্ট্র সরকারের কপালে ইতিমধ্যেই চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। কারণ, আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে চলেছে মহারাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় উৎসব—গণেশোৎসব। প্রায় ১১ দিন ধরে চলা এই উৎসবের ঠিক মুখেই যদি মারাঠা সম্প্রদায়ের মানুষের ঢল মুম্বাইয়ে নামে, তবে তা গোটা শহরের জনজীবন ও উৎসবের আনন্দকে সম্পূর্ণ পঙ্গু করে দিতে পারে। সরকার আন্দোলন দমানোর বা তার পরিধি ছোট করার চেষ্টা করছে অভিযোগ তুলে জারঙ্গে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যতই আড়াল করার চেষ্টা হোক না কেন, মারাঠাদের ক্ষোভ এবার ঢাকা যাবে না।

সরকারকে ১৫ দিনের আল্টিমেটাম দিয়ে জারঙ্গে ঘোষণা করেছেন যে, ২৯ আগস্ট থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা বিক্ষোভস্থলে জড়ো হয়ে সরকারের ওপর চাপ বজায় রাখতে হবে। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর পরবর্তী চূড়ান্ত কৌশল ঘোষণা করা হবে। তিনি সাফ জানিয়েছেন, এই সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে তিনি আর মারাঠাদের মুম্বাই যাওয়া থেকে আটকাতে পারবেন না এবং নিজেও ফিরবেন না। তবে আন্দোলন যাতে হিংসাত্মক রূপ না নেয়, সে বিষয়েও কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি। সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, পুলিশের সঙ্গে কোনো সংঘর্ষ বা অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা যেন না ঘটে; বরং শান্তিপূর্ণ উপায়েই অধিকার আদায় করা হবে। পাশাপাশি, কৃষকদের পাশাপাশি ওবিসি, দলিত, মুসলিম ও ধাঙ্গার সম্প্রদায়ের না মেলা অধিকার নিয়েও সরব হয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে মুম্বাইয়ের রাজপথ উত্তাল হয়ে ওঠার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।