শিক্ষার আলো, বাড়িতেই গড়েছেন ‘গরিবদের জন্য লাইব্রেরি’, ‘মানুষ মানুষের জন্য’, এই মন্ত্রে যুবসমাজের রোল মডেল শিক্ষিকা

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এগরা এক নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা উজ্জয়নী ব্যানার্জি পেশায় শিক্ষিকা হলেও মনেপ্রাণে তিনি এক নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবী। সমাজসেবার প্রথম পাঠ তিনি পেয়েছিলেন নিজের মায়ের কাছ থেকে, যিনি একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সক্রিয় সদস্যা। মায়ের পথ অনুসরণ করেই অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অভ্যাস তৈরি হয় উজ্জয়নীর। এলাকার দুঃস্থ ছেলেমেয়েদের কাছে খাবার পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমেই শুরু হয়েছিল তাঁর কাজের পথচলা।

তাঁর এই নিরলস কাজের ফলস্বরূপ, রাত-বিরেতে কোনও মানুষের রক্তের প্রয়োজন পড়লে, অসুস্থ পথশিশু বা আহত অবলা পশুকে বাঁচাতে সাহায্যের দরকার পড়লে, সর্বপ্রথম খবর যায় উজ্জয়নীর কাছেই। খবর পেলেই তিনি ছুটে যান সায়ন, সুভাষ, অঙ্কিতা-সহ তাঁর নিবেদিতপ্রাণ দলের সদস্যদের নিয়ে।

অল্প বেতন থেকে বড় কাজ: তৈরি হয়েছে ‘গরিবদের লাইব্রেরি’
উজ্জয়নী তাঁর চাকুরিজীবনের অল্প বেতন থেকে বেশিরভাগটাই খরচ করেন সমাজসেবামূলক কাজে। যেহেতু তাঁর একার পক্ষে এত বড় কাজ করা সম্ভব নয়, তাই এলাকার বহু মানুষ স্বেচ্ছায় তাঁর এই মহৎ উদ্যোগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। এই সম্মিলিত শক্তিতেই আজ এগরা শহরে পরিচিত নাম সমাজসেবী উজ্জয়নী।

মানবসেবা শুধু চিকিৎসা বা খাবারেই নয়, শিক্ষাতেও নিশ্চিত হতে হবে—এই বিশ্বাসে তিনি নিজের বাড়িতেই দরিদ্র পরিবারের জন্য তৈরি করেছেন একটি ছোট্ট লাইব্রেরি। যেখানে মেধাবী কিন্তু আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে পিছিয়ে থাকা ছেলেমেয়েরা বইপত্র নিয়ে পড়াশোনা করতে পারে। সমাজের উন্নতির জন্য বইয়ের চেয়ে বড় অস্ত্র আর কীই বা হতে পারে, সেই মন্ত্রেই তিনি বহু স্বপ্নকে উজ্জ্বল করে তুলতে চান।

শীতবস্ত্র থেকে জরুরি চিকিৎসা: দিন-রাত লড়াই
শীতকালে পথের মানুষের হাতে শীতবস্ত্র তুলে দেওয়া, দুর্গাপুজোর আগে দরিদ্র পরিবারের শিশুদের হাতে নতুন জামা পৌঁছে দেওয়া কিংবা কারোও জরুরি চিকিৎসার জন্য ফান্ড কালেকশন—সবক্ষেত্রেই সমান ভাবে এগিয়ে আসেন উজ্জয়নী।

তিনি দিন-রাত লড়াই করে চলেছেন শুধুমাত্র একটি বিশ্বাস নিয়ে—মানুষ মানুষের জন্য। তাঁর কাজ যেন যুবসমাজের সামনে এক রোল মডেল হয়ে উঠেছে, যা প্রমাণ করে দেয়—দৃঢ় ইচ্ছা থাকলে সমাজের জন্য বড় কিছু করা সম্ভব।