নন্দকুমারের ‘অনুপ্রেরণা নারী’! একহাতে সংসার, অন্য হাতে কারখানার হিসাব, কীভাবে ছোট ব্যাগ বানিয়ে মাসে মোটা টাকা আয় করছেন বীণাপানি সাহু?

“যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে”— এই বহুল প্রচলিত প্রবাদকে সত্যি প্রমাণ করে দেখিয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দকুমার থানার অন্তর্গত কামারদা গ্রামের বাসিন্দা বীণাপানি সাহু। একহাতে সংসার সামলানোর পাশাপাশি ব্যাগ তৈরি করা শিখে তিনি এখন একজন সফল ব্যবসায়ী। তাঁর এই সাফল্যের গল্প এখন ওই ব্লকের বহু মহিলাকে অনুপ্রেরণা জুগিয়ে চলেছে। সম্প্রতি তাঁর এই অদম্য লড়াইয়ের জন্য তিনি পেয়েছেন বিশেষ সম্মান।

অভাবের তাড়না, ইউটিউবের শিক্ষা
ক্লাস ইলেভেনের পরই পড়াশোনা ছেড়ে বীণাপানির বিয়ে হয়। স্বামীর ঘরে এসে তিনি দেখেন চরম অভাব। স্বামী বাস চালক। সংসারের হাল ফেরাতে তিনি নিজেই কিছু করার তাগিদ অনুভব করেন। প্রথমে সেলাইয়ের কাজ শেখেন। কিন্তু জীবনের মোড় ঘুরে যায় যখন তিনি ইউটিউব-এর সাহায্য নেন।

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থেকে তিনি মূলত সোনার দোকানে বা কাপড়ের দোকানে ব্যবহৃত ব্যাগ তৈরি করা শিখে নেন।

বীণাপানি সাহু বলেন, “প্রথমে পুরানো কাপড় দিয়ে ব্যাগ তৈরি করে প্রশিক্ষণ নিই। এরপর পাশের গ্রামের একটি ব্যাগ কারখানায় কারিগর হিসাবে কাজ শুরু করি। কিন্তু কিছু দিন পরই মাথায় ভাবনা আসে, কেন আমি নিজেই একটা ছোট কারখানা তৈরি করব না?”

লড়াই শুরু, ২৫ জনের কর্মসংস্থান
যেমন ভাবনা, তেমন কাজ। নিজের ছোট কারখানা গড়ে তোলার লড়াই শুরু করেন বীণাপানি। এই পথে তাঁকে সাহায্য করেন তাঁর আগের কারখানার মালিক। তিনি মালপত্র কোথা থেকে নিতে হবে, সেই রাস্তা দেখিয়ে দেন।

বর্তমানে বীণাপানি সাহু শুধু নিজেই কাজ করেন না, তাঁর কারখানায় ২০ থেকে ২৫ জন মহিলা ব্যাগ তৈরির কাজে যুক্ত। প্রতিটি ব্যাগের খরচ বাদ দিয়ে তাঁর ৩০ শতাংশ লাভ থাকে। তাঁর লক্ষ্য, ভবিষ্যতে আরও বড় করে কারখানা গড়ে তোলা।

স্বামী ও দু’টি ছেলেকে নিয়ে তাঁর সংসার। সংসারের যাবতীয় কাজের পাশাপাশি তিনি প্রতিদিন কারখানায় এসে ব্যাগ তৈরি ও ব্যবসা সামলানোর কাজ করেন। এর পাশাপাশি তিনি দুই মেদিনীপুর ও হাওড়া জুড়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কুইজ প্রতিযোগিতার সহকারী সঞ্চালক হিসাবেও কাজ করেন।

প্রত্যন্ত গ্রামের এই গৃহবধূ তাঁর অদম্য লড়াই দিয়ে প্রমাণ করেছেন, ইচ্ছে থাকলে সফলতা অর্জন করা যায়। তিনি এখন এলাকার অনেক মহিলার কাছে স্বাবলম্বী হওয়ার পথপ্রদর্শক।